ভারতের অযোধ্যায় নবনির্মিত রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী তছরুপের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের মন্দিরে এমন দুর্নীতির খবরে অনেক ভক্তই এখন আর সেখানে নতুন করে দান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাধারণ ভক্তদের এই গভীর অসন্তোষ ও চরম হতাশার চিত্র।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা প্রাচী খারে জানান, রামমন্দির নির্মাণ তার পূর্বপুরুষদের স্বপ্ন ছিল, যা পূরণ হয়েছে। তবে মন্দিরের অর্থ লোপাটের ঘটনায় তিনি ব্যথিত এবং ভবিষ্যতে আর কোনো দান করবেন না বলে জানিয়েছেন। রামগোপাল গোয়েল নামে আরেক ভক্তের অভিযোগ, মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে একদল অসাধু লোক নিজেদের পকেট ভারী করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভক্তদের বিশ্বাসের জায়গাটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
সম্প্রতি রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা ও রুপার গয়না আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে আদালতের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করে। এই তদন্তের ভিত্তিতে অযোধ্যা পুলিশ ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট সবরকম অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
এই ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এসআইটি রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তীর্থযাত্রী সুবিধা কেন্দ্র থেকে ৪০টি দানপাত্র খুলে অর্থ গণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি বিশেষ টিমকে। এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিরা সেই টিমেরই সদস্য ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মন্দিরের আমানত আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমানে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে মামলার আবেদন করার পরই পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়।
রিপোর্টারের নাম 























