ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের আপিল খারিজ: নারী সাংবাদিককে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আপিল গ্রহণ করেনি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে লেখক ও সাংবাদিক ই. জিন ক্যারলের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ বহাল থাকছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই আবেদনটি শুনানির জন্য প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে তিনি ২০২৩ সালের জুরি বোর্ডের রায় বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় কার্যকর থাকবে।

ই. জিন ক্যারল প্রথমে ২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা করেন। পরবর্তীতে, ২০২২ সালে নিউইয়র্কে কার্যকর হওয়া একটি নতুন আইনের সুযোগ নিয়ে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগেও দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। এই নতুন আইনটি ভুক্তভোগীদের অতীতের ঘটনাতেও মামলা করার সুযোগ দেয়।

আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ২০২২ সালের যৌন নিপীড়ন মামলার বিচার আগে শুরু হয়। সেই মামলায় জুরি বোর্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ২০১৯ সালের মানহানির মামলার রায়েও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। সুদ যোগ হলে ক্যারলের মোট পাওনা ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।

মামলায় ক্যারলের অভিযোগ ছিল, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। পরে তিনি অভিযোগটি প্রকাশ করলে ট্রাম্প তা অস্বীকার করে তার মানহানি করেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প শুরু থেকেই সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তার দাবি, মামলার বিচারক লুইস কাপলান বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেন, অতীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা দুই নারীর সাক্ষ্য এবং ২০০৫ সালের ‘অ্যাকসেস হলিউড’ অডিওকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হয়নি।

তবে গত বছর দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলস নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে জানায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় এমন কোনো ত্রুটি হয়নি যা নতুন বিচার প্রয়োজনীয় করে তোলে। এরপর পূর্ণ বেঞ্চে পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হলে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টকে পুরোনো অভিযোগের মামলায় ব্যস্ত রাখা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ক্যারলের আইনজীবীরা বলেন, জুরি পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানকে হারিয়ে স্বস্তিতে আনচেলত্তি: ‘ধৈর্য হারাইনি, এটাই পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স’

ট্রাম্পের আপিল খারিজ: নারী সাংবাদিককে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

আপডেট সময় : ০৯:১৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আপিল গ্রহণ করেনি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে লেখক ও সাংবাদিক ই. জিন ক্যারলের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ বহাল থাকছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই আবেদনটি শুনানির জন্য প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে তিনি ২০২৩ সালের জুরি বোর্ডের রায় বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় কার্যকর থাকবে।

ই. জিন ক্যারল প্রথমে ২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা করেন। পরবর্তীতে, ২০২২ সালে নিউইয়র্কে কার্যকর হওয়া একটি নতুন আইনের সুযোগ নিয়ে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগেও দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। এই নতুন আইনটি ভুক্তভোগীদের অতীতের ঘটনাতেও মামলা করার সুযোগ দেয়।

আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ২০২২ সালের যৌন নিপীড়ন মামলার বিচার আগে শুরু হয়। সেই মামলায় জুরি বোর্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ২০১৯ সালের মানহানির মামলার রায়েও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। সুদ যোগ হলে ক্যারলের মোট পাওনা ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।

মামলায় ক্যারলের অভিযোগ ছিল, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। পরে তিনি অভিযোগটি প্রকাশ করলে ট্রাম্প তা অস্বীকার করে তার মানহানি করেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প শুরু থেকেই সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তার দাবি, মামলার বিচারক লুইস কাপলান বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেন, অতীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা দুই নারীর সাক্ষ্য এবং ২০০৫ সালের ‘অ্যাকসেস হলিউড’ অডিওকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হয়নি।

তবে গত বছর দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলস নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে জানায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় এমন কোনো ত্রুটি হয়নি যা নতুন বিচার প্রয়োজনীয় করে তোলে। এরপর পূর্ণ বেঞ্চে পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হলে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টকে পুরোনো অভিযোগের মামলায় ব্যস্ত রাখা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ক্যারলের আইনজীবীরা বলেন, জুরি পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।