ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরার বিপ্লব: মিলছে অভাবনীয় সাফল্য

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট ও বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা যেমন—উল্টোপথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মতো অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু আইন প্রয়োগকেই কঠোর করেনি, বরং চালকদের আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।

বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১১০টি অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ সিসিটিভির তুলনায় এগুলো অনেক বেশি কার্যকর। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম এই ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ (PTZ) ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্যামেরা দূর থেকেই যানবাহনের নম্বরপ্লেট রিড করতে পারে এবং চলন্ত অবস্থায় অপরাধী গাড়িকে অনুসরণ করতে সক্ষম। ফলে কোনো ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত না থাকলেও অপরাধী পার পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

প্রযুক্তির এই ব্যবহারের সুফল এরই মধ্যে পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর মাত্র এক মাসের মধ্যে কয়েকশ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৮৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে লেনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে বাসের বিরুদ্ধেই মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চালকদের মধ্যে এখন এই সচেতনতা তৈরি হয়েছে যে, ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও ডিজিটাল চোখ তাদের প্রতিটি মুভমেন্ট পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে রাজধানীর প্রধান মোড়গুলোতে চালকদের মধ্যে এখন জেব্রা ক্রসিং মেনে চলা এবং সিগন্যাল মানার প্রবণতা বাড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানিতে জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় বাড়ছে রাজনৈতিক বিভাজন

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরার বিপ্লব: মিলছে অভাবনীয় সাফল্য

আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট ও বিশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা যেমন—উল্টোপথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার মতো অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু আইন প্রয়োগকেই কঠোর করেনি, বরং চালকদের আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।

বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১১০টি অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ সিসিটিভির তুলনায় এগুলো অনেক বেশি কার্যকর। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম এই ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ (PTZ) ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্যামেরা দূর থেকেই যানবাহনের নম্বরপ্লেট রিড করতে পারে এবং চলন্ত অবস্থায় অপরাধী গাড়িকে অনুসরণ করতে সক্ষম। ফলে কোনো ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত না থাকলেও অপরাধী পার পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

প্রযুক্তির এই ব্যবহারের সুফল এরই মধ্যে পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর মাত্র এক মাসের মধ্যে কয়েকশ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৮৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে লেনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে বাসের বিরুদ্ধেই মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চালকদের মধ্যে এখন এই সচেতনতা তৈরি হয়েছে যে, ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও ডিজিটাল চোখ তাদের প্রতিটি মুভমেন্ট পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে রাজধানীর প্রধান মোড়গুলোতে চালকদের মধ্যে এখন জেব্রা ক্রসিং মেনে চলা এবং সিগন্যাল মানার প্রবণতা বাড়ছে।