ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মুম্বাইয়ে বিষাক্ত ক্যাপসুল খাইয়ে গণহত্যার ছক: আটক ব্যক্তির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

ভারতের মুম্বাইয়ে আশুরার শোভাযাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধের নামে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক ব্যক্তি জেরায় স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডকে ‘মহৎ কাজ’ হিসেবে প্রচার করে অন্যদেরও এতে প্রলুব্ধ করেছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যাপসুল বিতরণের সময় হাতেনাতে আটক করা হয় প্রেমজিকে। তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর ভেতরে ছিল জিংক ফসফাইড বা ইঁদুর মারার বিষ। এই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলোকে তিনি ভিটামিন বা রোগপ্রতিরোধক ওষুধ হিসেবে মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রেমজি প্রায় ১৫ দিন আগে পুনে থেকে মুম্বাই এসে একটি হোটেলে অবস্থান নেন এবং সেখানেই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলো তৈরি করেন। একার পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ ক্যাপসুল বিতরণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি কয়েকজনকে ‘সওয়াবের কাজ’ বুঝিয়ে সহযোগিতার জন্য রাজি করান। এই বিষাক্ত ক্যাপসুল সেবন করে অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আসে তিনজন নারী স্বেচ্ছাসেবীর সাহসিকতায়। তারা ক্যাপসুলগুলো দেখে সন্দেহ পোষণ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে থাকা গুঁড়ো পদার্থ দেখে বিষের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর দ্রুত মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। অভিযুক্ত ফাইয়াজ প্রেমজির বাবা পুনেতে একটি রং কারখানার মালিক এবং পুলিশ তার এই উগ্র মানসিকতার নেপথ্যে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য হলেন অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান

মুম্বাইয়ে বিষাক্ত ক্যাপসুল খাইয়ে গণহত্যার ছক: আটক ব্যক্তির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৬:২৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ভারতের মুম্বাইয়ে আশুরার শোভাযাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধের নামে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক ব্যক্তি জেরায় স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডকে ‘মহৎ কাজ’ হিসেবে প্রচার করে অন্যদেরও এতে প্রলুব্ধ করেছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যাপসুল বিতরণের সময় হাতেনাতে আটক করা হয় প্রেমজিকে। তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর ভেতরে ছিল জিংক ফসফাইড বা ইঁদুর মারার বিষ। এই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলোকে তিনি ভিটামিন বা রোগপ্রতিরোধক ওষুধ হিসেবে মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রেমজি প্রায় ১৫ দিন আগে পুনে থেকে মুম্বাই এসে একটি হোটেলে অবস্থান নেন এবং সেখানেই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলো তৈরি করেন। একার পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ ক্যাপসুল বিতরণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি কয়েকজনকে ‘সওয়াবের কাজ’ বুঝিয়ে সহযোগিতার জন্য রাজি করান। এই বিষাক্ত ক্যাপসুল সেবন করে অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আসে তিনজন নারী স্বেচ্ছাসেবীর সাহসিকতায়। তারা ক্যাপসুলগুলো দেখে সন্দেহ পোষণ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে থাকা গুঁড়ো পদার্থ দেখে বিষের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর দ্রুত মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। অভিযুক্ত ফাইয়াজ প্রেমজির বাবা পুনেতে একটি রং কারখানার মালিক এবং পুলিশ তার এই উগ্র মানসিকতার নেপথ্যে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।