ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ: ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ১৯ কোটির বেশি মানুষ

ইউরোপজুড়ে বর্তমানে তীব্র দাবদাহ চলছে। রবিবার (২৮ জুন) এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহাদেশটির অন্তত ১৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বিশেষ করে জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

জার্মান আবহাওয়া দপ্তর এবং অস্ট্রিয়ার এনজিও ‘ক্লাইমেটড্যাশবোর্ড’-এর জনসংখ্যা সংক্রান্ত যৌথ গবেষণা তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, তুরস্ক বাদে সামগ্রিকভাবে ইউরোপের প্রায় ৩৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের প্রায় পুরো অংশেই তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। এর পাশাপাশি জার্মানির বার্লিন এলাকাসহ দেশটির প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ এই তীব্র গরমের কবলে পড়বেন। এছাড়া, স্লোভাকিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, অস্ট্রিয়া এবং ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে রবিবার সন্ধ্যার দিকে আবহাওয়া সংক্রান্ত ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও, সেখানকার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ এখনও এই গরমে ভুগছেন।

জলবায়ু গবেষকরা মনে করছেন, এই সংখ্যার চেয়েও বাস্তবে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ক্লাইমেটড্যাশবোর্ডের ডেভিড জাবলোনস্কি এএফপিকে জানান, আবহাওয়া মডেলগুলো প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকার নিখুঁত হিসাব দিলেও ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড’ (যেখানে দালানকোঠা ও কংক্রিটের কারণে তাপমাত্রা চারপাশের চেয়ে অনেক বেশি থাকে) বা স্থানীয় অতিরিক্ত গরমের প্রভাব পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না। ফলে শহরাঞ্চলের প্রকৃত ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যা এই হিসাবের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘আনন্দ মেলা’র তারিখ পরিবর্তন, আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন ববিতা

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ: ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ১৯ কোটির বেশি মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:১৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ইউরোপজুড়ে বর্তমানে তীব্র দাবদাহ চলছে। রবিবার (২৮ জুন) এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহাদেশটির অন্তত ১৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বিশেষ করে জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

জার্মান আবহাওয়া দপ্তর এবং অস্ট্রিয়ার এনজিও ‘ক্লাইমেটড্যাশবোর্ড’-এর জনসংখ্যা সংক্রান্ত যৌথ গবেষণা তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, তুরস্ক বাদে সামগ্রিকভাবে ইউরোপের প্রায় ৩৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের প্রায় পুরো অংশেই তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। এর পাশাপাশি জার্মানির বার্লিন এলাকাসহ দেশটির প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ এই তীব্র গরমের কবলে পড়বেন। এছাড়া, স্লোভাকিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, অস্ট্রিয়া এবং ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে রবিবার সন্ধ্যার দিকে আবহাওয়া সংক্রান্ত ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও, সেখানকার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ এখনও এই গরমে ভুগছেন।

জলবায়ু গবেষকরা মনে করছেন, এই সংখ্যার চেয়েও বাস্তবে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ক্লাইমেটড্যাশবোর্ডের ডেভিড জাবলোনস্কি এএফপিকে জানান, আবহাওয়া মডেলগুলো প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকার নিখুঁত হিসাব দিলেও ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ‘আর্বান হিট আইল্যান্ড’ (যেখানে দালানকোঠা ও কংক্রিটের কারণে তাপমাত্রা চারপাশের চেয়ে অনেক বেশি থাকে) বা স্থানীয় অতিরিক্ত গরমের প্রভাব পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না। ফলে শহরাঞ্চলের প্রকৃত ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যা এই হিসাবের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।