ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

‘ফ্যাসিবাদী সরকার’ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল, যার ফলে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

বুধবার (২৪ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব: সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির মিলনমেলা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক খাত নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটানোর অভিযোগ করেন এবং ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতির আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেও নজরুল তার অসাধারণ প্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তার সংগ্রামী জীবন, আত্মমর্যাদাবোধ এবং শোষণবিরোধী দর্শন আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুলের ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তার প্রতি বিশেষ স্নেহ ও শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন গভীর মানবতাবোধসম্পন্ন একজন বিশ্বকবি, যিনি মানুষের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রদর্শন করেছেন। তার সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তাধারা আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। সমতল, পাহাড়, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থান দেশের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্বস্তি

‘ফ্যাসিবাদী সরকার’ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল, যার ফলে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

বুধবার (২৪ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব: সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির মিলনমেলা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক খাত নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটানোর অভিযোগ করেন এবং ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতির আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেও নজরুল তার অসাধারণ প্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তার সংগ্রামী জীবন, আত্মমর্যাদাবোধ এবং শোষণবিরোধী দর্শন আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুলের ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তার প্রতি বিশেষ স্নেহ ও শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন গভীর মানবতাবোধসম্পন্ন একজন বিশ্বকবি, যিনি মানুষের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রদর্শন করেছেন। তার সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তাধারা আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। সমতল, পাহাড়, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থান দেশের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।