বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের আন্দোলনের ফসল হওয়া সত্ত্বেও চব্বিশের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এক আত্মঘাতী ও অপরিণামদর্শী অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর পর সেই গণভোটের রায়কে পদদলিত করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য বুমেরাং হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাণিজ্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং ঘুষ-দুর্নীতি অবাধে চলছে। সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই তাদের শতাধিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এছাড়া, তিনি বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় জাতীয় নির্বাচনের আগে শেরপুরে জামায়াতের এক নেতা, নির্বাচনের পরে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের দুই নেতাকর্মী এবং অতি সম্প্রতি গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের এক নেতা নির্মমভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেশে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যার ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার জন্মলগ্ন থেকে ৩-দফা দাওয়াত ও ৪-দফা কর্মসূচি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে সংগঠনটিকে নানা চড়াই-উৎড়াই পার হতে হয়েছে এবং এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। জামায়াতের এই পথচলায় আল্লাহর অনেক প্রিয় বান্দাকে হাজারো জেল-জুলুম, হামলা-মামলাসহ অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এবং অনেককে শাহাদাতের অমূল্য ত্যাগের পথে এগিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী নীতির আলোকে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করে আসছে। দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে এবং জাতীয় সংসদের অংশীদারিত্বমূলক সকল নির্বাচনেই জামায়াতের প্রতিনিধি ছিল। অতীতে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 


















