ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে শিক্ষার্থীকে ক্ষমা ও টিসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে শালিসে দেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

বুধবার বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক গ্রাম্য শালিসে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শিক্ষিকার পা ধরে ক্ষমা চাইতে এবং বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিঠু ভূঁইয়া এই রায় ঘোষণা করেন। তবে শালিসের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, একজন শিক্ষিকাকে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সামনে প্রকাশ্যে মারধর করে চরম অপমান করার পর শুধু পা ধরে ক্ষমা চাওয়াকে কোনোভাবেই সুষ্ঠু বিচার বলা যায় না। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কিশোর মেহেদী হাসান বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তিনি বিদ্যালয়ের এক দপ্তরির ছেলে। শালিস বৈঠকেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মূল ঘটনা কৌশলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নাজমুন নাহার নাহিদ জানান, গত মঙ্গলবার ক্লাস চলাকালে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দপ্তরির ছেলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা সহিংস রূপ নেয়। উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দিয়ে নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী তার গায়ে হাত তোলে এবং চড়-ঘুষি মারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সেখানে বিদ্যালয়ের আরও তিনজন শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সবার সামনে এমন আকস্মিক হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ে থমথমে ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর এমন হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিলিভারের উদ্যোগে পরিবেশ সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ

শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে শিক্ষার্থীকে ক্ষমা ও টিসি

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে শালিসে দেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

বুধবার বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক গ্রাম্য শালিসে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শিক্ষিকার পা ধরে ক্ষমা চাইতে এবং বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিঠু ভূঁইয়া এই রায় ঘোষণা করেন। তবে শালিসের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, একজন শিক্ষিকাকে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সামনে প্রকাশ্যে মারধর করে চরম অপমান করার পর শুধু পা ধরে ক্ষমা চাওয়াকে কোনোভাবেই সুষ্ঠু বিচার বলা যায় না। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কিশোর মেহেদী হাসান বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তিনি বিদ্যালয়ের এক দপ্তরির ছেলে। শালিস বৈঠকেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মূল ঘটনা কৌশলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নাজমুন নাহার নাহিদ জানান, গত মঙ্গলবার ক্লাস চলাকালে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দপ্তরির ছেলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা সহিংস রূপ নেয়। উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দিয়ে নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী তার গায়ে হাত তোলে এবং চড়-ঘুষি মারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সেখানে বিদ্যালয়ের আরও তিনজন শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সবার সামনে এমন আকস্মিক হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ে থমথমে ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর এমন হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।