চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রস্তাবিত মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং কার্যকরী স্মারক (এমওএ) বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মিশরের একটি প্রতিষ্ঠানের কথিত প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া কাউসার আলম চৌধুরীর কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই আদেশ জারি করেন।
গত বছরের ১ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিন্সুয়ালা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি দাবি করা কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে চসিকের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে একই বছরের ২৪ জুন একটি কার্যকরী স্মারকও (এমওএ) স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে চসিকের পক্ষ থেকে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি একজন প্রতারকের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় মেয়র এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করা হয়। এমনকি চুক্তিপত্রের কপি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছিল।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত এক ই-মেইলের মাধ্যমে জানা যায় যে, ঢাকায় অবস্থিত মিশরীয় দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চসিকের সঙ্গে চুক্তিকারী কাউসার আলম চৌধুরী আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিন্সুলা কনসোর্টিয়ামের কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধি নন। মিশরীয় দূতাবাস গত ২২ জুন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ জুন চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে মনোরেল জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশিত হলে চসিক ও মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসে।
ভুয়া প্রতিনিধির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক অফিসিয়াল আদেশের মাধ্যমে কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পূর্বের সব এমওইউ এবং এমওএ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেন। এই আদেশের অনুলিপি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























