জমির দলিল নিবন্ধন এবং শ্রেণি অনুসারে বাজারমূল্য বা সরকারি ফি (রাজস্ব কর) নির্ধারণের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত থাকায় একটি চক্র প্রতি শতাংশে জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারকে ঠকাচ্ছে। জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রাররা ‘রক্ষক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের বিরুদ্ধে ‘ভক্ষক’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনেও সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় একটি চক্র লাভবান হচ্ছে।
তবে, জমির বাজারমূল্য নির্ধারণের এই গতানুগতিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা কমিটির পরিধি বাড়িয়ে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে যুক্ত করে কাঠামোতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, অভিনব কৌশলে জমির দলিল নিবন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের সঙ্গে কিছু ভূমিদস্যু মিলে বাড়ি বা ভিটাকে ‘নাল’ জমি দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করিয়ে নিচ্ছে। এই ধারা পরিবর্তনে সরকার সচেষ্ট এবং ভূমি-সংক্রান্ত সেবাগুলো একই ছাতার নিচে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ২০২১-২২ অর্থবছরে গুলশানের অধীন মৌজাসমূহের শ্রেণিভিত্তিক প্রতি অযুতাংশ জমির সর্বনিম্ন গড়মূল্য নির্ধারণে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ঢাকা জেলার তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার এই কমিটির সভাপতি ছিলেন এবং তার অধীনস্থ বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম ও গুলশানের সাব-রেজিস্ট্রার শাহ মো. আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া সদস্য হিসেবে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই কমিটির মাধ্যমে তেজগাঁও শিল্প এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জমির শ্রেণি অনুযায়ী নিবন্ধন ফি নির্ধারণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি অযুতাংশ জমির নিবন্ধন ফি ৩৬ হাজার ২৯ টাকা হলেও, একে ‘নাল’ বা ‘ডোবা’ হিসেবে দেখিয়ে অনেক কম ফি নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির শামিল।
রিপোর্টারের নাম 






















