ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খুললেও কাটছে না তেলের সংকট: উধাও ১১৫ কোটি ব্যারেল সরবরাহ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ায় বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে তেলের সংকট এখনই কাটছে না, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় চার মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো তেল আসেনি। যুদ্ধ চলাকালীন বিশ্ববাজার থেকে সব মিলিয়ে ১১৫ কোটি (১.১৫ বিলিয়ন) ব্যারেল তেলের সরবরাহ হারিয়ে গেছে। এর ফলে তেলের বাজার একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পড়েছে এবং তা দ্রুত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তেলের মজুত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেলের মজুতও গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া বাণিজ্যিক মজুতও প্রায় শেষ পর্যায়ে ঠেকেছে। গত বুধবার ফ্রান্সের ভার্সাইতে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আপনারা কি বিশৃঙ্খলা দেখতে চান? আমাদের মজুত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি না খুললে বিশ্ব বড় অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ত।

চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত কমেছে। যুদ্ধের সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ দশমিক ৪১ ডলারে উঠেছিল, যা এখন কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের নিচে নেমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দাম আবার বাড়তে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালি খুললেই তেল সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ, খালি ট্যাংকার ফিরিয়ে আনা, উৎপাদন শুরু করা এবং তেল গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি বেশ ধীরগতির। তেল শিল্পের ধারণা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। কেপলারের ম্যাট স্মিথ জানান, চুক্তি নিয়ে আশাবাদের কারণে এখন দাম কমলেও গ্রীষ্মের মাসগুলোতে মার্কিন ক্রেতাদের বেশি দামেই তেল কিনতে হতে পারে। আইইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, বাজারে চাহিদার চেয়ে দৈনিক অতিরিক্ত ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও হারিয়ে যাওয়া সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি আরও শোচনীয়: ওবামা

হরমুজ প্রণালি খুললেও কাটছে না তেলের সংকট: উধাও ১১৫ কোটি ব্যারেল সরবরাহ

আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ায় বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে তেলের সংকট এখনই কাটছে না, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় চার মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো তেল আসেনি। যুদ্ধ চলাকালীন বিশ্ববাজার থেকে সব মিলিয়ে ১১৫ কোটি (১.১৫ বিলিয়ন) ব্যারেল তেলের সরবরাহ হারিয়ে গেছে। এর ফলে তেলের বাজার একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পড়েছে এবং তা দ্রুত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তেলের মজুত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেলের মজুতও গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া বাণিজ্যিক মজুতও প্রায় শেষ পর্যায়ে ঠেকেছে। গত বুধবার ফ্রান্সের ভার্সাইতে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আপনারা কি বিশৃঙ্খলা দেখতে চান? আমাদের মজুত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি না খুললে বিশ্ব বড় অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ত।

চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত কমেছে। যুদ্ধের সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ দশমিক ৪১ ডলারে উঠেছিল, যা এখন কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের নিচে নেমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দাম আবার বাড়তে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালি খুললেই তেল সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ, খালি ট্যাংকার ফিরিয়ে আনা, উৎপাদন শুরু করা এবং তেল গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি বেশ ধীরগতির। তেল শিল্পের ধারণা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। কেপলারের ম্যাট স্মিথ জানান, চুক্তি নিয়ে আশাবাদের কারণে এখন দাম কমলেও গ্রীষ্মের মাসগুলোতে মার্কিন ক্রেতাদের বেশি দামেই তেল কিনতে হতে পারে। আইইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, বাজারে চাহিদার চেয়ে দৈনিক অতিরিক্ত ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও হারিয়ে যাওয়া সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।