মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুনোখুনি, নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই এবং প্রকাশ্য মারামারি—এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো অপরাধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অনেক সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও জনমনে অস্থিরতা আরও বাড়াচ্ছে।
চব্বিশের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আশা ছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের অজানা ভীতি কাজ করছে, যার ফলে তারা শক্তভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের খোয়া যাওয়া ১ হাজার ৩২৮টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই অস্ত্রগুলো দুর্বৃত্তদের হাতে চলে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ভীতি কাটাতে পুলিশের জন্য বিভিন্ন মোটিভেশন ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে এবং পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক মনে করেন, অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। শাস্তির বিলম্ব অপরাধীদের আরও সাহস জোগাচ্ছে। এছাড়া, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাবোধ করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে (ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে) ১ হাজার ২০২ জন খুন হয়েছেন এবং এই সময়ে ৫৯৬টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















