সরকারের পক্ষ থেকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঈদের আগের তুলনায় সবজি, মুরগি ও ডিমের দাম কমলেও চাল, আটা, ডাল এবং মসলাজাতীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও অস্বস্তি বিরাজ করছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
খুচরা বাজারে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে বাজার স্থিতিশীল থাকার কথা বলা হলেও দাম কমানো যায়নি। বিশেষ করে চালের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। ইসলামপুর বাদামতলীর মেসার্স ইসলাম রাইস এজেন্সির আমজাদ হোসেন জানান, গত বছর বোরো মৌসুমের পর বড় বড় করপোরেট হাউসগুলো বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ধান কিনে নিয়েছিল, যার প্রভাব এবারও দেখা যাচ্ছে। তারা বর্তমানে ধানের সরবরাহ কম ও দাম বেশি বলে চালের দাম বাড়িয়েছে। ঈদের তুলনায় মিনিকেট চালের দাম বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের হাজী ইসমাইল রাইস এজেন্সির মইন উদ্দিন জানান, মিনিকেট চালের দাম বস্তায় ১০০-১৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৫০-২০০ টাকা এবং আটাশ জাতের চালের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাও চালের দাম, যা বস্তায় প্রায় ৯০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই বাজারের নোয়াখালী রাইস ট্রেডার্সের শাওন জানান, ঈদের তুলনায় আটাশ ৩-৪ টাকা, মিনিকেট ৪-৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫-১০ টাকা এবং পোলাও চাল কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ব্যাহত করছে।
যদিও টিসিবির গতকালের দৈনিক বাজার দরের তালিকাতেও চালের দাম বৃদ্ধির উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সরকারের কঠোর মনিটরিং এবং বড় ধরনের মজুত পরিস্থিতি বজায় থাকলে বাজারের পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
রিপোর্টারের নাম 



















