ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প, স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

সাভার পৌরসভার জামসিং জয়পাড়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। দুটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চক্র এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দেওয়ার নাম করে স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নের প্রকল্পে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা তোলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাভার পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের জামসিং জয়পাড়া মহল্লায় দুটি বড় উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ‘ইউনিব্লক’ সড়ক নির্মাণ এবং ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই কাজ চললেও এলাকার কতিপয় ব্যক্তি এটিকে পুঁজি করে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছে। জালিয়াতির অংশ হিসেবে, এলাকার জয়পাড়া মহল্লার বাইতুল মামুর কেরামাতীয়া জামে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ চাওয়া হয়। এতে প্রচার করা হয় যে, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বড় অঙ্কের টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণ হবে না, শুধুমাত্র রাস্তার কাজ শুরু হবে।

এ ব্যাপারে মসজিদের ইমাম নাজির আহমেদ বলেন, মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীল খন্দকার ফরহাদ হোসেন ও হাজী মো. শামসুদ্দিন আমাকে মাইকিং করতে বলায় আমি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েছি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হাজী মো. শামসুদ্দিন ও তার ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স এবং স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মাসুমসহ একটি চক্র টাকা উত্তোলন শুরু করে। তারা এলাকার শতাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে বাড়ি ও সামর্থ্যভেদে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২০, ২৫ ও ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। এভাবে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি শতভাগ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে এবং এতে নাগরিকদের কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই – এমন তথ্য জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প, স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সাভার পৌরসভার জামসিং জয়পাড়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। দুটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চক্র এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দেওয়ার নাম করে স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নের প্রকল্পে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা তোলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাভার পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের জামসিং জয়পাড়া মহল্লায় দুটি বড় উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ‘ইউনিব্লক’ সড়ক নির্মাণ এবং ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই কাজ চললেও এলাকার কতিপয় ব্যক্তি এটিকে পুঁজি করে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছে। জালিয়াতির অংশ হিসেবে, এলাকার জয়পাড়া মহল্লার বাইতুল মামুর কেরামাতীয়া জামে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ চাওয়া হয়। এতে প্রচার করা হয় যে, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বড় অঙ্কের টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণ হবে না, শুধুমাত্র রাস্তার কাজ শুরু হবে।

এ ব্যাপারে মসজিদের ইমাম নাজির আহমেদ বলেন, মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীল খন্দকার ফরহাদ হোসেন ও হাজী মো. শামসুদ্দিন আমাকে মাইকিং করতে বলায় আমি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েছি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হাজী মো. শামসুদ্দিন ও তার ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স এবং স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মাসুমসহ একটি চক্র টাকা উত্তোলন শুরু করে। তারা এলাকার শতাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে বাড়ি ও সামর্থ্যভেদে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২০, ২৫ ও ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। এভাবে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি শতভাগ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে এবং এতে নাগরিকদের কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই – এমন তথ্য জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।