চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। বড় ধরনের কয়েকটি অনুসন্ধান চলমান থাকলেও নতুন মামলা দায়েরের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এছাড়া আলোচিত অনেক অনুসন্ধানের অগ্রগতিও দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, চট্টগ্রামে দুদকের কার্যক্রম কি আকস্মিকভাবে থেমে গেছে?
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছর চট্টগ্রামে দুদকের কার্যক্রমে এক নতুন গতি দেখা গিয়েছিল। সেই সময়ে সাবেক মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অনুসন্ধান, অভিযান ও মামলা শুরু হয়েছিল। চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়টি তখন আলোচিত দুর্নীতি মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং ব্যাংক খাতের অনিয়ম সংক্রান্ত ব্যাপক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চট্টগ্রামে একাধিক অনুসন্ধান শুরু করেছিল। বিশেষ করে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্প, সিডিএর (চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) অনুমোদন বাণিজ্য এবং ব্যাংকিং খাতের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।
গত বছর চট্টগ্রামে দুদকের সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে ছিল সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রায় ১১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মামলা। এই মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।
গত বছরের শেষ দিকে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) বিভিন্ন শাখা থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল যে, দিনমজুর, কৃষক, অটোরিকশা চালক এবং সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া ব্যবসায়ী সাজিয়ে ঋণ তুলে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় ইউসিবির সাতটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরো সাতটি মামলা করে দুদক।
মামলা দায়েরের পাশাপাশি, গত বছর চট্টগ্রামে দুদকের কয়েকটি অভিযানও ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল।
রিপোর্টারের নাম 



















