ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ

মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, সরকারি দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই এবং প্রকাশ্যে হামলার মতো অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এমনকি কোনো অপরাধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অনেক সময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের ওপর চড়াও হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভিডিওগুলোতে শোনা যাচ্ছে, ‘বিচার হবে না, আমরা বিচার করব।’ সব মিলিয়ে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। খোদ রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় জননিরাপত্তার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ ছিল। আশা ছিল রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। পুলিশের মাঠ পর্যায়ে নানা রকম ভীতি কাজ করছে এবং তারা শক্তভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারছে না। এছাড়া, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের খোয়া যাওয়া এক হাজার ৩২৮টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত ওই অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

পুলিশ বলছে, ভীতি কাটাতে পুলিশের বিভিন্ন মোটিভেশন ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং পুলিশকে শক্তিশালী করা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক মনে করেন, ‘অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শাস্তির বিলম্বিত ব্যবস্থায় অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের সংশয় থাকে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে (ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে) এক হাজার ২০২ জন খুন হয়েছে। এ সময়ে ৫৯৬টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, সরকারি দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই এবং প্রকাশ্যে হামলার মতো অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এমনকি কোনো অপরাধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অনেক সময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের ওপর চড়াও হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভিডিওগুলোতে শোনা যাচ্ছে, ‘বিচার হবে না, আমরা বিচার করব।’ সব মিলিয়ে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। খোদ রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় জননিরাপত্তার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ ছিল। আশা ছিল রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। পুলিশের মাঠ পর্যায়ে নানা রকম ভীতি কাজ করছে এবং তারা শক্তভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারছে না। এছাড়া, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের খোয়া যাওয়া এক হাজার ৩২৮টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত ওই অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

পুলিশ বলছে, ভীতি কাটাতে পুলিশের বিভিন্ন মোটিভেশন ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং পুলিশকে শক্তিশালী করা না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক মনে করেন, ‘অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শাস্তির বিলম্বিত ব্যবস্থায় অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের সংশয় থাকে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে (ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে) এক হাজার ২০২ জন খুন হয়েছে। এ সময়ে ৫৯৬টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।