ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রতিদিন একটি শিশুর মৃত্যু: উদ্বেগ প্রকাশ জাতিসংঘের

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে গাজায় গড়ে প্রতিদিন একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতিকে ইউনিসেফ একটি ‘নিষ্ঠুর ও মারাত্মক বিভ্রম’ হিসেবে অভিহিত করেছে, কারণ অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইউনিসেফ শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু নিহত হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধারাবাহিক মৃত্যু এমন একটি যুদ্ধবিরতির অন্তঃসারশূন্যতাকে উন্মোচিত করেছে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের ইসরাইলি গোলাবর্ষণ থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

এল্ডার জানান, ‘সারা বিশ্ব যখন যুদ্ধবিরতির ভাষায় কথা বলে চলেছে, গাজার পরিবারগুলো তখনো তাদের ছেলেমেয়েদের দাফন করে চলেছে। বাড়ি, স্কুল এবং জনবহুল স্থানে, এমনকি ফুটবল খেলা বা মাছ ধরার সময়েও শিশুরা নিহত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সপ্তাহে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে দুই বছরের এক বালক নিহত এবং ১৩ বছরের এক বালক তার তাঁবুর ভেতরে গুলিতে নিহত হয়। ৫ বছরের এক বালক ও তার বাবা ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে এবং এই ধারা থামছে না।’

ইউনিসেফ আরও জানায়, অক্টোবর থেকে চার শতাধিক শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের আঘাত মারাত্মক। এল্ডার বলেন, ইসরাইল ক্রমাগত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ও ‘অরেঞ্জ লাইন’ সীমানা সম্প্রসারণ করছে, যার ফলে ‘অরেঞ্জ লাইনের কাছে হাঁচি দিলেও আপনি গুলিবিদ্ধ হতে পারেন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, শত শত শিশুকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার কারণে আহত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ, জটিলতা এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়ছে।

গাজার শিশুদের ওপর মানসিক চাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করে এল্ডার বলেন, ‘গাজার শিশুদের জন্য ভয়, ক্ষতি এবং সহিংসতা এতটাই নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে যে, এই মানসিক আঘাত আর তাদের জীবনের বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি তাদের শৈশবের প্রতিটি বুননের সাথে মিশে গেছে।’ তিনি এই বিষয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়ও শিশুদের ক্রমাগত মৃত্যু আন্তর্জাতিক আইনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে কাউকেই শঙ্কিত করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলকে লেবাননের মাটি থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার হিজবুল্লাহর

গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রতিদিন একটি শিশুর মৃত্যু: উদ্বেগ প্রকাশ জাতিসংঘের

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে গাজায় গড়ে প্রতিদিন একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতিকে ইউনিসেফ একটি ‘নিষ্ঠুর ও মারাত্মক বিভ্রম’ হিসেবে অভিহিত করেছে, কারণ অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইউনিসেফ শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু নিহত হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধারাবাহিক মৃত্যু এমন একটি যুদ্ধবিরতির অন্তঃসারশূন্যতাকে উন্মোচিত করেছে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের ইসরাইলি গোলাবর্ষণ থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

এল্ডার জানান, ‘সারা বিশ্ব যখন যুদ্ধবিরতির ভাষায় কথা বলে চলেছে, গাজার পরিবারগুলো তখনো তাদের ছেলেমেয়েদের দাফন করে চলেছে। বাড়ি, স্কুল এবং জনবহুল স্থানে, এমনকি ফুটবল খেলা বা মাছ ধরার সময়েও শিশুরা নিহত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সপ্তাহে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে দুই বছরের এক বালক নিহত এবং ১৩ বছরের এক বালক তার তাঁবুর ভেতরে গুলিতে নিহত হয়। ৫ বছরের এক বালক ও তার বাবা ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে এবং এই ধারা থামছে না।’

ইউনিসেফ আরও জানায়, অক্টোবর থেকে চার শতাধিক শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের আঘাত মারাত্মক। এল্ডার বলেন, ইসরাইল ক্রমাগত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ও ‘অরেঞ্জ লাইন’ সীমানা সম্প্রসারণ করছে, যার ফলে ‘অরেঞ্জ লাইনের কাছে হাঁচি দিলেও আপনি গুলিবিদ্ধ হতে পারেন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, শত শত শিশুকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার কারণে আহত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ, জটিলতা এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়ছে।

গাজার শিশুদের ওপর মানসিক চাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করে এল্ডার বলেন, ‘গাজার শিশুদের জন্য ভয়, ক্ষতি এবং সহিংসতা এতটাই নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে যে, এই মানসিক আঘাত আর তাদের জীবনের বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি তাদের শৈশবের প্রতিটি বুননের সাথে মিশে গেছে।’ তিনি এই বিষয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়ও শিশুদের ক্রমাগত মৃত্যু আন্তর্জাতিক আইনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে কাউকেই শঙ্কিত করবে।