ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রাবিতে র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের উপর হামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করার দায়ে তিন সাংবাদিক এবং রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) এর দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে ঘটে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

মারধরের শিকার হয়েছেন রাবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের আবু বকর অনিক। এছাড়া রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির এবং রাকসু বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্করও এই হামলার শিকার হন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের হাবিবুর রহমান হিমেল, সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, জিহাদ, সামির, আতিকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা প্রায়শই জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে র‌্যাগিং করতো। এই বিষয়টি রাবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশনকে জানানো হলে তিনি তথ্য সংগ্রহের জন্য রবীন্দ্র ভবনের পাশে যান। সেখানে তিনি সহকারী প্রক্টরকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে পান যে, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সারিতে দাঁড় করিয়ে রেখেছে ইমিডিয়েট সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় মারুফ হোসেনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। তারা তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও গালাগালি করেন এবং ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেন। সাংবাদিক ভিডিও মুছতে রাজি না হওয়ায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় তাকে মারধর করার চেষ্টা করে।

পরবর্তীতে আরও কিছু সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলে তাদেরও আটকে রাখা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের নানা রকম হুমকিও দেয় এবং মামলা করার ভয় দেখায়। এরপর রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির ও রাকসু বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তাদের কথায় কেউ কর্ণপাত করেননি, বরং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তারা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলকে লেবাননের মাটি থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার হিজবুল্লাহর

রাবিতে র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের উপর হামলা

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করার দায়ে তিন সাংবাদিক এবং রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) এর দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে ঘটে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

মারধরের শিকার হয়েছেন রাবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের আবু বকর অনিক। এছাড়া রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির এবং রাকসু বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্করও এই হামলার শিকার হন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের হাবিবুর রহমান হিমেল, সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, জিহাদ, সামির, আতিকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা প্রায়শই জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে র‌্যাগিং করতো। এই বিষয়টি রাবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশনকে জানানো হলে তিনি তথ্য সংগ্রহের জন্য রবীন্দ্র ভবনের পাশে যান। সেখানে তিনি সহকারী প্রক্টরকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে পান যে, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সারিতে দাঁড় করিয়ে রেখেছে ইমিডিয়েট সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় মারুফ হোসেনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। তারা তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও গালাগালি করেন এবং ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেন। সাংবাদিক ভিডিও মুছতে রাজি না হওয়ায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় তাকে মারধর করার চেষ্টা করে।

পরবর্তীতে আরও কিছু সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলে তাদেরও আটকে রাখা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের নানা রকম হুমকিও দেয় এবং মামলা করার ভয় দেখায়। এরপর রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির ও রাকসু বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তাদের কথায় কেউ কর্ণপাত করেননি, বরং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তারা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।