ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বকেয়া বেতনের দাবিতে মধ্যরাতে মহাসড়ক অবরোধ, যানজটে নাকাল যাত্রী

গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে তালহা স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার এমসি বাজার এলাকায়। শ্রমিকরা মহাসড়কের দুটি লেন দখল করে বিক্ষোভ শুরু করলে রাত গভীর হলেও সড়ক না ছাড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত মে মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বারবার তারিখ পরিবর্তন করে আসছে। জুন মাসও প্রায় শেষের দিকে চলে এলেও তারা এখনও মে মাসের বকেয়া বেতন পাননি। শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, ‘গত মাসের বেতন এখনও পাইনি। কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। জুন মাসের বেতন দেওয়ার সময় চলে এসেছে, অথচ মে মাসের বেতনই বাকি রয়েছে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’ শ্রমিক লাইলী বেগম জানান, ‘আমরা কষ্ট করে কাজ করছি, কিন্তু বেতন না পেয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দোকানে বাকি বেড়েছে, বাসাভাড়া দিতে পারছি না। না খেয়ে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি।’

এদিকে মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা যায়। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যাত্রী মুসান্না সাকিব বলেন, ‘দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানজটে আটকে আছি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি থাকলেও এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছে। শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর আগেই বেতন পরিশোধ করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান জানান, রাত ১০টা থেকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনা চলছিল এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

বকেয়া বেতনের দাবিতে মধ্যরাতে মহাসড়ক অবরোধ, যানজটে নাকাল যাত্রী

আপডেট সময় : ০২:১৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে তালহা স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার এমসি বাজার এলাকায়। শ্রমিকরা মহাসড়কের দুটি লেন দখল করে বিক্ষোভ শুরু করলে রাত গভীর হলেও সড়ক না ছাড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত মে মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বারবার তারিখ পরিবর্তন করে আসছে। জুন মাসও প্রায় শেষের দিকে চলে এলেও তারা এখনও মে মাসের বকেয়া বেতন পাননি। শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, ‘গত মাসের বেতন এখনও পাইনি। কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। জুন মাসের বেতন দেওয়ার সময় চলে এসেছে, অথচ মে মাসের বেতনই বাকি রয়েছে। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’ শ্রমিক লাইলী বেগম জানান, ‘আমরা কষ্ট করে কাজ করছি, কিন্তু বেতন না পেয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দোকানে বাকি বেড়েছে, বাসাভাড়া দিতে পারছি না। না খেয়ে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি।’

এদিকে মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা যায়। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যাত্রী মুসান্না সাকিব বলেন, ‘দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানজটে আটকে আছি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি থাকলেও এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছে। শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর আগেই বেতন পরিশোধ করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান জানান, রাত ১০টা থেকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনা চলছিল এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।