বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার একশ দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রত্যাশিত কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। সরকারের শুরুতে যে ধরনের আশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে সম্পর্কটি এখনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের মতোই স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পূর্বে ভারত দুবার তার সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রথমত, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা সফরে এসে তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শোক প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি আমন্ত্রণপত্রও পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
তবে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, কেবল এই সৌজন্যমূলক কূটনৈতিক আচরণই যথেষ্ট নয়। বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশ মনে করছে, নতুন সরকারের প্রতি ভারতের আন্তরিকতা প্রমাণে পূর্বের কিছু কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভারত এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের ট্রানশিপমেন্ট আবার চালু করা, ব্যবসা ও চিকিৎসার জন্য সকল প্রকার ভিসা সুবিধা স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজারে প্রবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। ঢাকা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিষয়গুলোর কোনোটিই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের যুক্তি হলো, এই সিদ্ধান্তগুলো অপরিবর্তিত রেখে ভারত তারেক রহমানকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়নি। উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বে তারেক রহমানকে জামায়াতে ইসলামী এবং ভারতবিরোধী কিছু ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রবীণ নেতারা সম্পর্ক সহজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা জনমনে এই ধারণা তৈরি করতে সচেষ্ট যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, তা থেকে সরে আসার এটি একটি প্রয়াস। কিন্তু ঢাকা মনে করছে, তাদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টাকে ভারত সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি।
এ প্রসঙ্গে তারা পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কিছু পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা তাদের মতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি দেয়াল তৈরি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























