ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যাংক খাতে বিপুল অঙ্কের লোকসান

দেশের ব্যাংক খাত প্রথমবারের মতো সামগ্রিকভাবে বিপুল অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণের কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার বড় অংশই এই খাতে চলে গেছে, যার ফলে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, গত বছর ব্যাংক খাতে সম্মিলিত নিট লোকসান হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এর আগে কখনো দেশের ব্যাংক খাত এমন সম্মিলিত লোকসানের সম্মুখীন হয়নি।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের মোট সুদ আয় ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আট দশমিক এক শতাংশ কম। অন্যদিকে, সুদ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এর ফলে সুদ খাতে আয় ঋণাত্মক হয়ে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার লোকসানে পরিণত হয়। তবে, সুদের বাইরের আয় বা বিনিয়োগ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। এতে ব্যাংকগুলোর মোট আয় দাঁড়ায় ৭০ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা।

একই সময়ে, ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রভিশন সংরক্ষণের পূর্বে ব্যাংক খাতের মুনাফা ছিল ১৯ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কিন্তু খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের পরিমাণ এক লাফে বেড়ে এক লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ছয়গুণ বেশি। এর ফলে কর-পূর্ব লোকসান দাঁড়ায় এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। কর বাবদ ১২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা ব্যয় যোগ হওয়ার পর ব্যাংক খাতের নিট লোকসান বেড়ে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সম্মিলিত নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা এক লাখ আট হাজার ৮২৪ কোটি টাকা কমে গেছে, যা এক হাজার ২২৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। যদিও ২০২৩ সালে সম্মিলিত নিট মুনাফা হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালে এই পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসায় ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হয়েছে, যা এই লোকসানের প্রধান কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যাংক খাতে বিপুল অঙ্কের লোকসান

আপডেট সময় : ১২:১৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

দেশের ব্যাংক খাত প্রথমবারের মতো সামগ্রিকভাবে বিপুল অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণের কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার বড় অংশই এই খাতে চলে গেছে, যার ফলে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, গত বছর ব্যাংক খাতে সম্মিলিত নিট লোকসান হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এর আগে কখনো দেশের ব্যাংক খাত এমন সম্মিলিত লোকসানের সম্মুখীন হয়নি।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের মোট সুদ আয় ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আট দশমিক এক শতাংশ কম। অন্যদিকে, সুদ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এর ফলে সুদ খাতে আয় ঋণাত্মক হয়ে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার লোকসানে পরিণত হয়। তবে, সুদের বাইরের আয় বা বিনিয়োগ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। এতে ব্যাংকগুলোর মোট আয় দাঁড়ায় ৭০ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা।

একই সময়ে, ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রভিশন সংরক্ষণের পূর্বে ব্যাংক খাতের মুনাফা ছিল ১৯ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। কিন্তু খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের পরিমাণ এক লাফে বেড়ে এক লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ছয়গুণ বেশি। এর ফলে কর-পূর্ব লোকসান দাঁড়ায় এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। কর বাবদ ১২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা ব্যয় যোগ হওয়ার পর ব্যাংক খাতের নিট লোকসান বেড়ে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সম্মিলিত নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা এক লাখ আট হাজার ৮২৪ কোটি টাকা কমে গেছে, যা এক হাজার ২২৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। যদিও ২০২৩ সালে সম্মিলিত নিট মুনাফা হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালে এই পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসায় ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হয়েছে, যা এই লোকসানের প্রধান কারণ।