আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা, চাকরি এবং জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা সত্ত্বেও, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে সরকার নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নারীদের ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। এই পটভূমিতে, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাজার হাজার আফগান নারী উদ্যোক্তা হওয়াকে জীবিকার অন্যতম শেষ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী রয়েছেন, যা গত পাঁচ বছরে প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও, প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত আছেন। বিশ্বব্যাংকের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসা বর্তমানে আফগান নারীদের জন্য বৃহত্তম কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
পূর্বে আইনজীবী, প্রকৌশলী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখা অনেক নারী এখন কার্পেট বুনন, প্রসাধনী উৎপাদন বা কারিগরি প্রশিক্ষণ-ভিত্তিক ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছেন। সরকারি চাকরি, বহু বেসরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন পেশায় নারীদের কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় ব্যবসা তাদের জন্য আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক যোগাযোগের শেষ আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফে ১৯ বছর বয়সী নাসিরা আজিজি, যিনি একসময় প্রকৌশলী হতে চেয়েছিলেন, এখন একটি কার্পেট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি হতাশায় ভুগতে শুরু করেন। এরপর ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় কার্পেট ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার দুটি কারখানা ও ঘরে বসে কাজ করা মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী রয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী। নাসিরা বলেন, শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল জীবন থেমে গেছে, কিন্তু এই কারখানা তাকে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা দিয়েছে।
একইভাবে, ২১ বছর বয়সী রোকিয়া রেজায়ি, যিনি একসময় খনি প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তিনি এখন একটি সাবান ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























