ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নানা রকম গল্প তৈরি হয়। চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের মুখের কালো ফেস মাস্ক ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা কেন এই বিশেষ মাস্ক পরে খেলছেন, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এই মাস্ক পরার পেছনে রয়েছে একটি ভয়াবহ চোটের ইতিহাস।
চলতি বছরের এপ্রিলে স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাডার হয়ে আলমেরিয়ার বিপক্ষে খেলার সময় মারাত্মক সংঘর্ষের শিকার হয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সী লুকা। দুর্ঘটনায় তার চোয়াল ও থুতনির হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর কনকাশনেও ভোগেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর মৌসুমের বাকি সময়টা মাঠের বাইরে কাটাতে হলেও, দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান তিনি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে মুখের সুরক্ষায় এই শক্ত কালো মাস্ক ব্যবহার করছেন, যা নতুন করে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমায়। চোটের ভয় কাটিয়ে লুকা জানিয়েছেন, তিনি এখন পুরোপুরি ব্যথামুক্ত এবং মাঠে ফিরতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।
ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেললেও, বাবার মতো ফ্রান্সের মূল দলের হয়ে খেলেননি লুকা। পিতৃসূত্রে দাদা-দাদির দেশ আলজেরিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মায়ের সূত্রে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি আলজেরিয়াকে বেছে নিয়েছেন। আপাতত তার আন্তর্জাতিক পরিচয় ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেই কালো ফেস মাস্ক। গুরুতর চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে লুকা জিদানের এই ফিরে আসা কেবল ফুটবলীয় দক্ষতার পরিচয় দেয় না, বরং তা খেলোয়াড়ি চেতনা ও অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য স্মারক।
রিপোর্টারের নাম 

























