ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব, কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় উর্বর তিন ফসলি জমিতে অবাধে পুকুর খননের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাছ চাষে অধিক লাভের আশায় কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরির ফলে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি এলাকায় পুকুর খননের প্রবণতা দেখা গেলেও জিউপাড়া, ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বিলেই চলছে পুকুর খননের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় এক দশক আগে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কিছু নিচু ও এক ফসলি জমিতে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে তিন ফসলি উর্বর জমিতেও। এক্সকাভেটর দিয়ে জমি কেটে পুকুর তৈরির ফলে প্রতি বছর কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে কৃষিজমি হ্রাস পেতে থাকলে ভবিষ্যতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাবে। পুঠিয়া মূলত একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা, যেখানে ধান, পাট, আখ, আলু, বেগুন, রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফসল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু কৃষিজমির ক্ষতিই নয়, পুকুরের মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনের কারণে সড়ক ও মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকেরা ট্রাক্টর চালাচ্ছে, যাদের অধিকাংশেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।

শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। এমনকি জিউপাড়া এলাকায় আমবাগান কেটেও পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এসব পুকুরের মাটি স্থানীয় ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার অনেকে আটশ থেকে এক হাজার টাকা দরে মাটি কিনেও নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, পুকুর খননের ফলে উপজেলার কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের জমি পুকুর খননের জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়াতে বর্তমানে দিনের বেলাতেই পুকুর খননের কাজ চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব, কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় উর্বর তিন ফসলি জমিতে অবাধে পুকুর খননের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাছ চাষে অধিক লাভের আশায় কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরির ফলে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি এলাকায় পুকুর খননের প্রবণতা দেখা গেলেও জিউপাড়া, ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বিলেই চলছে পুকুর খননের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় এক দশক আগে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কিছু নিচু ও এক ফসলি জমিতে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে তিন ফসলি উর্বর জমিতেও। এক্সকাভেটর দিয়ে জমি কেটে পুকুর তৈরির ফলে প্রতি বছর কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে কৃষিজমি হ্রাস পেতে থাকলে ভবিষ্যতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাবে। পুঠিয়া মূলত একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা, যেখানে ধান, পাট, আখ, আলু, বেগুন, রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফসল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু কৃষিজমির ক্ষতিই নয়, পুকুরের মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনের কারণে সড়ক ও মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকেরা ট্রাক্টর চালাচ্ছে, যাদের অধিকাংশেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।

শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। এমনকি জিউপাড়া এলাকায় আমবাগান কেটেও পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এসব পুকুরের মাটি স্থানীয় ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার অনেকে আটশ থেকে এক হাজার টাকা দরে মাটি কিনেও নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, পুকুর খননের ফলে উপজেলার কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের জমি পুকুর খননের জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়াতে বর্তমানে দিনের বেলাতেই পুকুর খননের কাজ চলছে।