‘মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’ এই প্রশ্নটি আলজেরিয়ার মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজাকে করা হলে তিনি স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে উত্তর দেন, ‘মেসি-জাদু। এর ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। ম্যাচটা দেখলেই বুঝবেন ‘মেসি-জাদু’ বলতে কী বোঝায়। আজ যেমন দেখলেন, সে একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।’
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। ১৫ গোল নিয়ে তিনি ক্লোসের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আরও একটি গোল করলেই এককভাবে শীর্ষে পৌঁছাবেন। তবে ম্যাচ শেষে ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ট্রফি হাতে মেসি জানান, ‘সত্যি বলতে, এই রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবছি না। ক্লোসের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা সম্মানের। ব্রাজিলের রোনালদোও আছেন সেখানে। এমবাপ্পেও আছে, সে আজ দুটি গোল করেছে। শেষ পর্যন্ত এগুলো কেবল পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।’
মেসির এই মন্তব্য বিস্ময় জাগিয়েছে। তার সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে উত্তর দেন, ‘সে এসব নিয়ে মাথাই ঘামায় না। তার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এসব মনে করিয়ে দিলেও সে এসব নিয়ে ভাবে না। এটা কীভাবে সম্ভব, আমি জানি না।’
মেসি বলেই এমনটা সম্ভব। রেকর্ড মেসির পায়ে লুটিয়ে পড়েছে যুগ যুগ ধরে। তিনি শুধু ফুটবল উপভোগ করতে চান এবং সতীর্থ, প্রতিপক্ষ ও পুরো বিশ্বকে বিস্মিত করতে চান। যে কারণে ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময়ও প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে কিংবদন্তির নামে উল্লাসধ্বনি তোলেন। ভালোবাসায় আপ্লুত মেসিও দু’হাত তুলে অভিবাদন জানান।
মেসির এই কীর্তিগাথায় মোহিত কোচ স্কালোনিও। তিনি অবলীলায় স্বীকার করে নেন সাধারণ অথচ অসাধারণত্বের চিরন্তন বা এই জাদুকরের মধ্যে নিহিত।
রিপোর্টারের নাম 

























