ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মেসির জোড়া রেকর্ড! হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আর্জেন্টিনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটির উজ্জ্বল রাতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে তারা। এই জয়ে আর্জেন্টিনা জানিয়ে দিল, তারা ট্রফি ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ম্যাচটি ছিল মেসির জন্য মাইলফলকের পর মাইলফলক স্পর্শ করার রাত। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার প্রথম হ্যাটট্রিক। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এই গোলগুলোর মাধ্যমে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসার আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডেও (১৬ গোল) সমতা আনেন। একইসঙ্গে তিনি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামার গৌরব অর্জন করেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল বিস্ময় এক সন্ধ্যাতেই নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করলেন।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। কোচ লিওনেল স্কালোনির ৪-৩-৩ ফর্মেশন ছিল নিখুঁত। বল হারালেই পুরো দল নেমে আসছিল সংকুচিত রক্ষণে। এমনকি মেসি নিজেও শুরুতে যে কয়েকবার বল হারান, তা ফেরত পাওয়ার জন্য নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। বল পেলে ছোট ছোট নিখুঁত পাসে আলজেরিয়ার ডিফেন্স ভেঙে মুহূর্তেই আক্রমণভাগে পৌঁছে যাচ্ছিলেন তারা। পরিসংখ্যানে বলের দখল আলজেরিয়ার ৫২ শতাংশ থাকলেও, তাদের আক্রমণ আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কখনই প্রকৃত চাপে ফেলতে পারেনি।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জাদুর আভাস দিয়েছিলেন মেসি। বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। হরিজেন্টাল আক্রমণের সুবিধা করতে না পেরে আর্জেন্টিনা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কৌশল বদলায়। ভার্টিক্যাল, অর্থাৎ সোজাসুজি জায়গা থেকে আক্রমণের ছক কষে মেসির দল। সে কৌশলে প্রথম সাফল্য আসে ম্যাচের ১৭ মিনিটে। রদ্রিগো দি পলের বাড়ানো বল বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ-পায়ের অবিশ্বাস্য বাঁকানো শটে গোলরক্ষক লুকা জিদানেকে পরাস্ত করেন তিনি। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন একটাই ধ্বনি—‘মেসি… মেসি… মেসি…’। প্রথমার্ধে একচেটিয়া আধিপত্যের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা ছন্দ হারালেও, বড় খেলোয়াড়রা বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করতে দ্বিধা করেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

মেসির জোড়া রেকর্ড! হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটির উজ্জ্বল রাতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে তারা। এই জয়ে আর্জেন্টিনা জানিয়ে দিল, তারা ট্রফি ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ম্যাচটি ছিল মেসির জন্য মাইলফলকের পর মাইলফলক স্পর্শ করার রাত। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার প্রথম হ্যাটট্রিক। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এই গোলগুলোর মাধ্যমে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসার আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডেও (১৬ গোল) সমতা আনেন। একইসঙ্গে তিনি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামার গৌরব অর্জন করেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল বিস্ময় এক সন্ধ্যাতেই নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করলেন।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। কোচ লিওনেল স্কালোনির ৪-৩-৩ ফর্মেশন ছিল নিখুঁত। বল হারালেই পুরো দল নেমে আসছিল সংকুচিত রক্ষণে। এমনকি মেসি নিজেও শুরুতে যে কয়েকবার বল হারান, তা ফেরত পাওয়ার জন্য নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। বল পেলে ছোট ছোট নিখুঁত পাসে আলজেরিয়ার ডিফেন্স ভেঙে মুহূর্তেই আক্রমণভাগে পৌঁছে যাচ্ছিলেন তারা। পরিসংখ্যানে বলের দখল আলজেরিয়ার ৫২ শতাংশ থাকলেও, তাদের আক্রমণ আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কখনই প্রকৃত চাপে ফেলতে পারেনি।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জাদুর আভাস দিয়েছিলেন মেসি। বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। হরিজেন্টাল আক্রমণের সুবিধা করতে না পেরে আর্জেন্টিনা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কৌশল বদলায়। ভার্টিক্যাল, অর্থাৎ সোজাসুজি জায়গা থেকে আক্রমণের ছক কষে মেসির দল। সে কৌশলে প্রথম সাফল্য আসে ম্যাচের ১৭ মিনিটে। রদ্রিগো দি পলের বাড়ানো বল বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ-পায়ের অবিশ্বাস্য বাঁকানো শটে গোলরক্ষক লুকা জিদানেকে পরাস্ত করেন তিনি। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন একটাই ধ্বনি—‘মেসি… মেসি… মেসি…’। প্রথমার্ধে একচেটিয়া আধিপত্যের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা ছন্দ হারালেও, বড় খেলোয়াড়রা বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করতে দ্বিধা করেননি।