বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দু’দেশের ঐতিহাসিক, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। এছাড়াও মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মি. মাহদি মোলারস এবং মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য এবং ডা. শফিকুর রহমানের বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের প্রশংসা করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ইরানের সকল নাগরিকের প্রতি গভীর দুঃখ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে শোক জানান। তিনি নিহত সকলের মাগফিরাত কামনা করেন। যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি কার্যকর থাকবে এবং ইরান আগামী দিনে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় দু’পক্ষ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, তেহরান-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং মেডিকেল ট্যুরিজম নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল চালু করার জন্য ইরান সরকারের প্রতি প্রস্তাব দেন। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইরানের সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।
রিপোর্টারের নাম 





















