বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়েই শুরু করলেন লিওনেল মেসি। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ভাসিয়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে আলজেরিয়াকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কানসাস সিটির এ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’র ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৭ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শটে কোনো সুযোগই পাননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান।
প্রথমার্ধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতেই। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিওনেল স্কালোনির দল।
৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। এরপর ৭৬ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে পূর্ণ করেন বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক।
এই তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
৩৮ বছর বয়সী মেসির জন্য ম্যাচটি ছিল আরও বিশেষ। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ এবং ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
হ্যাটট্রিকের পরপরই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ স্কালোনি। দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান হাজারো সমর্থক। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “পরিবার, সতীর্থ ও সমর্থকদের সঙ্গে এমন মুহূর্ত ভাগাভাগি করতে পারা অসাধারণ অনুভূতি। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন তারা ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন।”
আর্জেন্টিনার এই জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। আর মেসি জানিয়ে দিলেন, বয়স শুধু সংখ্যা—বড় মঞ্চে এখনও তিনিই সবচেয়ে বড় তারকা।
রিপোর্টারের নাম 
























