বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতোই শুরু। আধিপত্য, সৌন্দর্য আর অনবদ্য ফুটবলের প্রদর্শনী। কানসাস সিটির মাঠে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের প্রধান নায়ক ছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন সুপারস্টার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে এক রাতেই ছুঁয়েছেন একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১৬-তে নিয়ে গিয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করার কীর্তিতে তিনি নাম লিখিয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশে। ক্লাব এবং আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি অনেক হ্যাটট্রিক করেছেন, তবে বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক।
ম্যাচের শুরু থেকেই মেসির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ষষ্ঠ মিনিটে বাম পায়ের জাদুতে গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। অবশেষে ১৭ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক বাঁ-পায়ের শটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানেকে পরাস্ত করেন মেসি। স্টেডিয়াম তখন মেসি, মেসি, মেসি চিৎকারে মুখরিত ছিল।
প্রথমার্ধে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা ছন্দ হারায় আর্জেন্টিনা। তবে বড় খেলোয়াড়রা বড় মুহূর্তেই নিজেদের চেনান। আলজেরিয়ান গোলরক্ষক লুকা জিদান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন। তবে বল হাতে রাখতে পারেননি। ডিফ্লেক্টেড হয়ে বল সামনে পড়লে, জায়গা মতো দাঁড়িয়ে থাকা মেসি ফিরতি বলে ‘ফক্স ইন দ্য বক্স’-এর মতো দ্বিতীয় গোলটি করেন। আলতো ভঙ্গিতে পায়ের ছোঁয়ায় তার দ্বিতীয় এই গোল ম্যাচে আর্জেন্টিনার লিড দ্বিগুণ করে।
ম্যাচের শেষদিকে নিখুঁত ফিনিশে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৬, যা তাকে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে বসিয়েছে। এখন শুধু একটি গোলই তাকে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়ে দিতে পারে। নিঃসন্দেহে সেই রেকর্ডটি পরের ম্যাচেই তৈরি হবে।
তবে রেকর্ডের তালিকা এখানেই শেষ নয়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসে মাত্র…
রিপোর্টারের নাম 




















