ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো সম্ভব: আইনি প্রক্রিয়া জানালেন আইনজীবী

সাবেক আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা নিশ্চিত করা গেলে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব।

সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বর্তমানে কোনও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে। ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ইউএইর আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রস্তুত করবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে তা পাঠাবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে।

প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অপরাধের বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিশির মনিরের মতে, প্রত্যর্পণ আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি বিষয় যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকৃত অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ কিনা (ডুয়াল ক্রিমিনালিটি), মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর অভিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন কি না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য বড় সতর্কবার্তা: শায়খ আহমাদুল্লাহ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো সম্ভব: আইনি প্রক্রিয়া জানালেন আইনজীবী

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সাবেক আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা নিশ্চিত করা গেলে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব।

সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বর্তমানে কোনও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে। ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ইউএইর আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রস্তুত করবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে তা পাঠাবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে।

প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অপরাধের বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিশির মনিরের মতে, প্রত্যর্পণ আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি বিষয় যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকৃত অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ কিনা (ডুয়াল ক্রিমিনালিটি), মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর অভিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন কি না।