ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনের মধ্যে একজন বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১৭.৮ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা পৃথিবীর প্রতি ৭০ জনের মধ্যে একজনকে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হার কমেছে।

যদিও ২০২৫ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, লেবাননের ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুতি সংকট এই অগ্রগতিকে ম্লান করে দিয়েছে। ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরে আরও ৩.২ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৬৮.৬ মিলিয়ন মানুষ সংঘাত বা অন্যান্য সংকটের কারণে নিজ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রায় ২৮.৫ মিলিয়ন শরণার্থী ইউএনএইচসিআর-এর ম্যান্ডেটের অধীনে রয়েছেন। নয় মিলিয়ন মানুষ আশ্রয়প্রার্থী, যারা নিজ দেশে নিপীড়ন বা ক্ষতির ভয়ে অন্য দেশে সুরক্ষা চেয়ে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। ৭.২ মিলিয়ন মানুষের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন। ছয় মিলিয়ন ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইউএনআরডব্লিউএ এর ম্যান্ডেটের অধীনে রয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭২ শতাংশ) মাত্র সাতটি দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশগুলো হলো: ভেনেজুয়েলা (৬.৪ মিলিয়ন), ফিলিস্তিন (৬ মিলিয়ন), ইউক্রেন (৫.২ মিলিয়ন), সিরিয়া (৪.৯ মিলিয়ন), আফগানিস্তান (৩.৭ মিলিয়ন), সুদান (২.৮ মিলিয়ন), এবং দক্ষিণ সুদান (২.৪ মিলিয়ন)।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, শরণার্থী হলেন সেইসব ব্যক্তি যারা নিপীড়ন অথবা জীবন, শারীরিক সুরক্ষা বা স্বাধীনতার প্রতি গুরুতর হুমকি থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি শরণার্থী বাস করেন সাতটি দেশে। এগুলো হলো: কলম্বিয়া (২.৮ মিলিয়ন), জার্মানি (২.৭ মিলিয়ন), তুরস্ক (২.৪ মিলিয়ন), উগান্ডা (১.৯ মিলিয়ন), ইরান (১.৭ মিলিয়ন), চাদ (১.৫ মিলিয়ন), পাকিস্তান (১.৩ মিলিয়ন)। ইরান ও পাকিস্তানের প্রায় সকল শরণার্থীই আফগানিস্তানের, অন্যদিকে তুরস্কের অধিকাংশ শরণার্থী সিরিয়ার। কলম্বিয়ার শরণার্থীদের সিংহভাগই ভেনেজুয়েলার, অন্যদিকে জার্মানিতে বিপুল সংখ্যক ইউক্রেনীয়, সিরীয় এবং আফগান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। উগান্ডার অধিকাংশ শরণার্থী দক্ষিণ সুদানের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: চার মাসে আয় কমেছে ১১ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনের মধ্যে একজন বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১৭.৮ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা পৃথিবীর প্রতি ৭০ জনের মধ্যে একজনকে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হার কমেছে।

যদিও ২০২৫ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, লেবাননের ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুতি সংকট এই অগ্রগতিকে ম্লান করে দিয়েছে। ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরে আরও ৩.২ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৬৮.৬ মিলিয়ন মানুষ সংঘাত বা অন্যান্য সংকটের কারণে নিজ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রায় ২৮.৫ মিলিয়ন শরণার্থী ইউএনএইচসিআর-এর ম্যান্ডেটের অধীনে রয়েছেন। নয় মিলিয়ন মানুষ আশ্রয়প্রার্থী, যারা নিজ দেশে নিপীড়ন বা ক্ষতির ভয়ে অন্য দেশে সুরক্ষা চেয়ে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। ৭.২ মিলিয়ন মানুষের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন। ছয় মিলিয়ন ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইউএনআরডব্লিউএ এর ম্যান্ডেটের অধীনে রয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭২ শতাংশ) মাত্র সাতটি দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশগুলো হলো: ভেনেজুয়েলা (৬.৪ মিলিয়ন), ফিলিস্তিন (৬ মিলিয়ন), ইউক্রেন (৫.২ মিলিয়ন), সিরিয়া (৪.৯ মিলিয়ন), আফগানিস্তান (৩.৭ মিলিয়ন), সুদান (২.৮ মিলিয়ন), এবং দক্ষিণ সুদান (২.৪ মিলিয়ন)।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, শরণার্থী হলেন সেইসব ব্যক্তি যারা নিপীড়ন অথবা জীবন, শারীরিক সুরক্ষা বা স্বাধীনতার প্রতি গুরুতর হুমকি থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি শরণার্থী বাস করেন সাতটি দেশে। এগুলো হলো: কলম্বিয়া (২.৮ মিলিয়ন), জার্মানি (২.৭ মিলিয়ন), তুরস্ক (২.৪ মিলিয়ন), উগান্ডা (১.৯ মিলিয়ন), ইরান (১.৭ মিলিয়ন), চাদ (১.৫ মিলিয়ন), পাকিস্তান (১.৩ মিলিয়ন)। ইরান ও পাকিস্তানের প্রায় সকল শরণার্থীই আফগানিস্তানের, অন্যদিকে তুরস্কের অধিকাংশ শরণার্থী সিরিয়ার। কলম্বিয়ার শরণার্থীদের সিংহভাগই ভেনেজুয়েলার, অন্যদিকে জার্মানিতে বিপুল সংখ্যক ইউক্রেনীয়, সিরীয় এবং আফগান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। উগান্ডার অধিকাংশ শরণার্থী দক্ষিণ সুদানের।