ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইসরাইলি হামলার পর তেহরানের দর কষাকষির অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা আবারো উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানালেও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি চলমান পারমাণবিক আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দর-কষাকষিতে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে দাবি করে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারো সামনে চলে এসেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে যতটা দাবি করেন, বাস্তবে ততটা ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কিংবা করতে চাইছেন না। দ্বিতীয়ত, ইরান নিজ ভূখণ্ডে পাল্টা হামলার ঝুঁকি নিয়েও ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধকে একসূত্রে গাঁথতে আগ্রহী। তৃতীয়ত, পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতা এখনো খুব কাছাকাছি নয়, কারণ তেহরান মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ সীমিত।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকতে বলবেন। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যেই অভিযানে রওনা হয়েছিল।

যদিও অনেকের মতে এটি ট্রাম্পের আহ্বান অগ্রাহ্য করার শামিল, তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সীমিত পরিসরে ইসরাইলের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত ছিল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সমন্বয় ছিল। পাশাপাশি ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতেও যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল প্রতিশোধ নয়; বরং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরীক্ষা করা। তেহরান জানতে চেয়েছিল, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কতদূর পর্যন্ত সমর্থন দেবে এবং সরাসরি জড়াবে কি না। একই সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তারা কতটা ছাড় দিতে রাজি হবে, তাও পরখ করে দেখতে চেয়েছিল ইরান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বিশ্বকাপে জয়ে ফিরতে মরিয়া হাইতি ও স্কটল্যান্ড

ইসরাইলি হামলার পর তেহরানের দর কষাকষির অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা আবারো উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানালেও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি চলমান পারমাণবিক আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দর-কষাকষিতে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে দাবি করে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারো সামনে চলে এসেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে যতটা দাবি করেন, বাস্তবে ততটা ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কিংবা করতে চাইছেন না। দ্বিতীয়ত, ইরান নিজ ভূখণ্ডে পাল্টা হামলার ঝুঁকি নিয়েও ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধকে একসূত্রে গাঁথতে আগ্রহী। তৃতীয়ত, পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতা এখনো খুব কাছাকাছি নয়, কারণ তেহরান মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ সীমিত।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকতে বলবেন। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যেই অভিযানে রওনা হয়েছিল।

যদিও অনেকের মতে এটি ট্রাম্পের আহ্বান অগ্রাহ্য করার শামিল, তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সীমিত পরিসরে ইসরাইলের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত ছিল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সমন্বয় ছিল। পাশাপাশি ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতেও যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল প্রতিশোধ নয়; বরং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরীক্ষা করা। তেহরান জানতে চেয়েছিল, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কতদূর পর্যন্ত সমর্থন দেবে এবং সরাসরি জড়াবে কি না। একই সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তারা কতটা ছাড় দিতে রাজি হবে, তাও পরখ করে দেখতে চেয়েছিল ইরান।