ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় বিএনপি নেতা আটক, দল থেকে বহিষ্কার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাবিনা আক্তার নামে এক প্রেমিকার ঘরে একান্তে সময় কাটাতে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় শফি সিকদার নামে এক বিএনপি নেতাকে জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। পরে দুজনের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। সোমবার রাত ১২টার দিকে ওই নারীর বাড়ি ঘেরাও করে তাদের দুজনকে আটক করা হয়।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার শফি সিকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামে। শফি সিকদার একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে এবং বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনালিয়া গ্রামের সামান মিয়ার মেয়ে সাবিনা আক্তারের একই ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে সুজন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তিন বছর আগে সৌদি আরব চলে যান সাবিনা। কয়েক মাস আগে দেশে ফেরার পর কটামারা গ্রামের দুই সন্তানের জনক বিএনপি নেতা শফির সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শফিক প্রায় রাতেই সাবিনার বাড়ি আসতেন। বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে আসে।

সোমবার রাতে স্থানীয়রা সাবিনার বাড়ির আশেপাশে গোপনে পাহারার ব্যবস্থা করে। রাত ১১টার দিকে শফি ওই নারীর ঘরে ঢুকলে ওত পেতে থাকা স্থানীয় লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়িটি ঘেরাও করে তাদের আটক করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ শতাধিক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এ সময় শফিককে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আল আজাদসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন। পরে শফিক ও সাবিনার সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করে তাদের উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, এই খবর পেয়ে শফিকের আগের স্ত্রী ও সন্তানরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বেদম মারপিট করেন। পরে শফিককে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, জনতার হাতে আটকের খবর শুনে শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে যান। পরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বিশ্বকাপে জয়ে ফিরতে মরিয়া হাইতি ও স্কটল্যান্ড

পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় বিএনপি নেতা আটক, দল থেকে বহিষ্কার

আপডেট সময় : ০৯:৪০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাবিনা আক্তার নামে এক প্রেমিকার ঘরে একান্তে সময় কাটাতে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় শফি সিকদার নামে এক বিএনপি নেতাকে জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। পরে দুজনের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। সোমবার রাত ১২টার দিকে ওই নারীর বাড়ি ঘেরাও করে তাদের দুজনকে আটক করা হয়।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার শফি সিকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামে। শফি সিকদার একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে এবং বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনালিয়া গ্রামের সামান মিয়ার মেয়ে সাবিনা আক্তারের একই ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে সুজন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তিন বছর আগে সৌদি আরব চলে যান সাবিনা। কয়েক মাস আগে দেশে ফেরার পর কটামারা গ্রামের দুই সন্তানের জনক বিএনপি নেতা শফির সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শফিক প্রায় রাতেই সাবিনার বাড়ি আসতেন। বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে আসে।

সোমবার রাতে স্থানীয়রা সাবিনার বাড়ির আশেপাশে গোপনে পাহারার ব্যবস্থা করে। রাত ১১টার দিকে শফি ওই নারীর ঘরে ঢুকলে ওত পেতে থাকা স্থানীয় লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়িটি ঘেরাও করে তাদের আটক করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ শতাধিক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এ সময় শফিককে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আল আজাদসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন। পরে শফিক ও সাবিনার সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করে তাদের উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, এই খবর পেয়ে শফিকের আগের স্ত্রী ও সন্তানরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বেদম মারপিট করেন। পরে শফিককে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, জনতার হাতে আটকের খবর শুনে শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে যান। পরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।