ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কঠিন সময়ে নিয়োগদাতাদের পাশে চান কর্মীরা: মেটলাইফ বাংলাদেশের গবেষণা

মেটলাইফ বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে কর্মীদের প্রত্যাশায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। এই গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশের বেশি কর্মী আকস্মিক আর্থিক চাপ বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সমস্যার মতো কঠিন সময়ে তাদের নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের বড় সংকটময় মুহূর্তগুলোতে কর্মীরা নিয়োগদাতাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৪৩ শতাংশ বলেছেন যে, আকস্মিক আর্থিক চাপ বা অপ্রত্যাশিত ব্যয় একটি এমন পরিস্থিতি যখন নিয়োগদাতাদের সমর্থন তাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, ২৫ শতাংশ কর্মী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, ২৪ শতাংশ কর্মী পরিবারের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব এবং ২১ শতাংশ কর্মী গুরুতর চিকিৎসাজনিত জটিলতাকে গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ফলাফলগুলো স্পষ্ট করে যে, আর্থিক ধাক্কা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং পারিবারিক দায়িত্বের মতো পরিস্থিতিতে নিয়োগদাতাদের সহযোগিতা কর্মীদের কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, যদিও ৭২ শতাংশ কর্মী বিশ্বাস করেন যে তাদের প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতি যত্নশীল, মাত্র ৪২ শতাংশ কর্মী অন্যদের কাছে সক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ করতে আগ্রহী। এটি কর্মীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত অঙ্গীকার এবং কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধানের ইঙ্গিত দেয়। কর্মীরা কেবল কাগজে-কলমে থাকা নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ উদ্যোগ নয়, বরং বাস্তব সংকটের সময় দৃশ্যমান ও অর্থবহ সহায়তার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এ ধরনের সহায়তার ক্ষেত্রে প্রায় ২৯ শতাংশ কর্মী নমনীয় ছুটির নীতিকে (ফ্লেক্সিবল লিভ পলিসি) গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। অন্যদিকে, ২৬ শতাংশ কর্মী কঠিন সময়ে কাজের চাপ কমানোর বিষয়টিকে এবং ২২ শতাংশ কর্মী কাজের সময়সূচির ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে এমন মানবিক কর্মপরিবেশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই গবেষণাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা কেবল সহানুভূতির বিষয় নয়, এটি ব্যবসার প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় ৭৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য ও কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

কঠিন সময়ে নিয়োগদাতাদের পাশে চান কর্মীরা: মেটলাইফ বাংলাদেশের গবেষণা

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মেটলাইফ বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে কর্মীদের প্রত্যাশায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। এই গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশের বেশি কর্মী আকস্মিক আর্থিক চাপ বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সমস্যার মতো কঠিন সময়ে তাদের নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের বড় সংকটময় মুহূর্তগুলোতে কর্মীরা নিয়োগদাতাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৪৩ শতাংশ বলেছেন যে, আকস্মিক আর্থিক চাপ বা অপ্রত্যাশিত ব্যয় একটি এমন পরিস্থিতি যখন নিয়োগদাতাদের সমর্থন তাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, ২৫ শতাংশ কর্মী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, ২৪ শতাংশ কর্মী পরিবারের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব এবং ২১ শতাংশ কর্মী গুরুতর চিকিৎসাজনিত জটিলতাকে গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ফলাফলগুলো স্পষ্ট করে যে, আর্থিক ধাক্কা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং পারিবারিক দায়িত্বের মতো পরিস্থিতিতে নিয়োগদাতাদের সহযোগিতা কর্মীদের কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, যদিও ৭২ শতাংশ কর্মী বিশ্বাস করেন যে তাদের প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতি যত্নশীল, মাত্র ৪২ শতাংশ কর্মী অন্যদের কাছে সক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ করতে আগ্রহী। এটি কর্মীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত অঙ্গীকার এবং কর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধানের ইঙ্গিত দেয়। কর্মীরা কেবল কাগজে-কলমে থাকা নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ উদ্যোগ নয়, বরং বাস্তব সংকটের সময় দৃশ্যমান ও অর্থবহ সহায়তার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এ ধরনের সহায়তার ক্ষেত্রে প্রায় ২৯ শতাংশ কর্মী নমনীয় ছুটির নীতিকে (ফ্লেক্সিবল লিভ পলিসি) গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। অন্যদিকে, ২৬ শতাংশ কর্মী কঠিন সময়ে কাজের চাপ কমানোর বিষয়টিকে এবং ২২ শতাংশ কর্মী কাজের সময়সূচির ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে এমন মানবিক কর্মপরিবেশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই গবেষণাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা কেবল সহানুভূতির বিষয় নয়, এটি ব্যবসার প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় ৭৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য ও কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায়।