নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আসন্ন বাজেটে বৈষম্য দূরীকরণ, শিল্প ও গ্যাস সংকট নিরসন, আর্থিক, প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটিতে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘জনতুষ্টিমূলক বাজেটের সালতামামি; কল্যাণরাষ্ট্রের ভাবনায় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গত সরকার ১২টি বাজেট দিলেও তাদের কাছে কোনো প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু এই সরকারের কাছে আশা ছিল। তিনি মনে করেন, সব পক্ষের কথা শুনে বাজেট পর্যালোচনা করলে এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সময় আছে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই সরকারের পক্ষে কথা বলার মতো লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
মান্না সতর্ক করে বলেন, কেবল কথার ফুলঝুরি দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাজেটে মানুষের জন্য কথা বলা হলেও এখানে সাধারণ মানুষই উপেক্ষিত। এই বাজেট দেওয়ার পরও দ্রব্যমূল্য কমেনি এবং সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির ঘনীভূত রূপ হচ্ছে রাজনীতি এবং অর্থনীতি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার হিসাব-নিকাশের প্রতিফলন। এবারের বাজেট মানুষের জন্য কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, যদিও এতে কথার ফুলঝুরি রয়েছে; কিন্তু মধ্যবিত্ত ও গরিবদের কল্যাণের জন্য কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেই।
তিনি আরও বলেন, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কাঠামোগত পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রায় সোয়া নয় লাখ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রায় সাত লাখ কোটি টাকা উপার্জন করতে হবে, যার বড় লক্ষ্য এনবিআরকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বোর্ডের কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। গত বছরে এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, এই বছর তা আদায় করতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। যদি আদায় করতে না পারে, তবে আবারও ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























