ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে অন্ধকারে কিউবা: জনজীবনে চরম বিপর্যয়

ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিউবা। রাজধানী হাভানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা গত কয়েক দিন ধরে অন্ধকারে ডুবে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড গরম আর মশার উপদ্রব সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘কাসেরোলাজো’ হিসেবে পরিচিত।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশটির যাতায়াত ও রান্নার ওপরও। পেট্রোল স্টেশনগুলো মাসের পর মাস জ্বালানিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকে এখন কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বাসিন্দা জানান, আগে যে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সামান্য ছিল, এখন তা ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, অথচ তাঁর মাসিক পেনশন ১০ ডলারেরও কম।

অর্থনৈতিক এই মন্দার ছায়া পড়েছে কিউবার পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতেও। অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি কিউবা থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। এর ওপর কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কোনো সমঝোতা বা সমাধান না এলে দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও চরম তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা বিদ্যুৎহীন এই দেশটির জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার পাঁচ মাস: তৃণমূল ও কেন্দ্রে বিএনপির সাংগঠনিক জড়তা কাটাতে কাউন্সিলের অপেক্ষা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে অন্ধকারে কিউবা: জনজীবনে চরম বিপর্যয়

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিউবা। রাজধানী হাভানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা গত কয়েক দিন ধরে অন্ধকারে ডুবে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড গরম আর মশার উপদ্রব সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘কাসেরোলাজো’ হিসেবে পরিচিত।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশটির যাতায়াত ও রান্নার ওপরও। পেট্রোল স্টেশনগুলো মাসের পর মাস জ্বালানিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকে এখন কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বাসিন্দা জানান, আগে যে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সামান্য ছিল, এখন তা ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, অথচ তাঁর মাসিক পেনশন ১০ ডলারেরও কম।

অর্থনৈতিক এই মন্দার ছায়া পড়েছে কিউবার পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতেও। অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি কিউবা থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। এর ওপর কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কোনো সমঝোতা বা সমাধান না এলে দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও চরম তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা বিদ্যুৎহীন এই দেশটির জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।