পুঁজিবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে বেক্সিমকো এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের উপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সোমবার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই ও সিএসই) এই নির্দেশনা পরিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে এখন থেকে এই দুটি কোম্পানির শেয়ারের দর সম্পূর্ণরূপে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। উল্লেখ্য, বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পঞ্চম দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গত ৪ জুন নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ফ্লোর প্রাইস হলো একটি কৃত্রিম ব্যবস্থা যা শেয়ারের দর একটি নির্দিষ্ট স্তরের নিচে নামতে বাধা দেয়। বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস ছিল ১০০ টাকা ১০ পয়সা এবং ইসলামী ব্যাংকের জন্য তা ছিল ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। এই দুটি কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করার মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজার কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর ধরে রাখার প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত হলো।
বিএসইসির আদেশে জানানো হয়েছে যে, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ২৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে এক আদেশের মাধ্যমে এই দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে ফ্লোর প্রাইস ও অন্যান্য কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।
কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সকল তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকারের (শেয়ারের দাম বাড়া বা কমার সর্বোচ্চ সীমা) ঊর্ধ্বসীমা এবং নিম্নসীমা নির্ধারিত হবে ২০২১ সালের ১৭ জুন জারি করা বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী। এর অর্থ হলো, তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দর সার্কিট ব্রেকারের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই লেনদেন হবে, যেখানে একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে বা কমতে পারবে।
রিপোর্টারের নাম 
























