ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি: রডের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা, অস্তিত্ব সংকটে স্টিল শিল্প

বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের স্টিল শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের বর্ধিত ট্যারিফ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্টিল শিল্প মালিকরা।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় প্রতি মেট্রিক টন রড উৎপাদনে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট, বন্দর মাশুল, জ্বালানি ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যুক্ত হলে বাড়তি ব্যয় প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বিএসএমএ-র মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয়ের এই অতিরিক্ত চাপ পুরোপুরি ভোক্তাদের উপর চাপানো সম্ভব নয়। কারণ দাম বাড়ালে বিক্রি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উদ্যোক্তাদেরই ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হবে, যা শিল্পকারখানাগুলোর আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্মাণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা, কার্যকর মূলধনের ঘাটতি এবং গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে স্টিল খাত আগে থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের বাড়তি মূল্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং ১৫০টির বেশি রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন। তবে দেশের মোট চাহিদা বছরে প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় অধিকাংশ কারখানা তাদের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি: রডের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা, অস্তিত্ব সংকটে স্টিল শিল্প

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের স্টিল শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের বর্ধিত ট্যারিফ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্টিল শিল্প মালিকরা।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় প্রতি মেট্রিক টন রড উৎপাদনে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট, বন্দর মাশুল, জ্বালানি ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যুক্ত হলে বাড়তি ব্যয় প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বিএসএমএ-র মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয়ের এই অতিরিক্ত চাপ পুরোপুরি ভোক্তাদের উপর চাপানো সম্ভব নয়। কারণ দাম বাড়ালে বিক্রি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উদ্যোক্তাদেরই ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হবে, যা শিল্পকারখানাগুলোর আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্মাণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা, কার্যকর মূলধনের ঘাটতি এবং গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে স্টিল খাত আগে থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের বাড়তি মূল্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং ১৫০টির বেশি রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন। তবে দেশের মোট চাহিদা বছরে প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় অধিকাংশ কারখানা তাদের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করছে।