ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ে ওপেক প্লাস উৎপাদন বাড়াচ্ছে, তবে বাজারে প্রভাব সীমিত হওয়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে সম্ভাব্য বিঘ্ন সত্ত্বেও, ওপেক প্লাস জোট জুলাই মাসের জন্য দৈনিক ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর ক্ষতিপূরণমূলক উৎপাদন সমন্বয় দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমানের জ্বালানি মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ উচ্চ তেলের দামের সময়ে বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়ক হবে।

তবে, জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না। রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লেওন উল্লেখ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে এই উৎপাদন বৃদ্ধির বাস্তব অর্থ খুবই সীমিত হবে। তিনি আরও বলেন, তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া সহজ হলেও, সেই তেল যদি বাজারে পৌঁছাতে না পারে, তবে এর প্রভাব নগণ্য হবে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে এবং তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণাটি মূলত একটি নীতিগত বার্তা, বাস্তব সরবরাহ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো পদক্ষেপ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক সফর: পশ্চিম ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন

জুলাইয়ে ওপেক প্লাস উৎপাদন বাড়াচ্ছে, তবে বাজারে প্রভাব সীমিত হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে সম্ভাব্য বিঘ্ন সত্ত্বেও, ওপেক প্লাস জোট জুলাই মাসের জন্য দৈনিক ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর ক্ষতিপূরণমূলক উৎপাদন সমন্বয় দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমানের জ্বালানি মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ উচ্চ তেলের দামের সময়ে বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়ক হবে।

তবে, জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না। রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লেওন উল্লেখ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে এই উৎপাদন বৃদ্ধির বাস্তব অর্থ খুবই সীমিত হবে। তিনি আরও বলেন, তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া সহজ হলেও, সেই তেল যদি বাজারে পৌঁছাতে না পারে, তবে এর প্রভাব নগণ্য হবে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে এবং তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণাটি মূলত একটি নীতিগত বার্তা, বাস্তব সরবরাহ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো পদক্ষেপ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।