ঢাকা ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন চাল: মরিশাসের কাছ থেকে কেনার প্রস্তাব

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নতুন উদ্যোগের ফলে। জানা গেছে, হোয়াইট হাউস এখন মরিশাসের কাছ থেকে সরাসরি এই কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জটি কিনে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটেনকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি মরিশাসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনার মধ্যে দ্বীপপুঞ্জ কেনার এই ধারণাটি অন্যতম। যদিও এটি এখনও ওয়াশিংটনের প্রধান বিকল্প নয়, তবে বিষয়টি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নজরে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংকট এবং চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-সামরিক সক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযান পরিচালনায় বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ চীনঘনিষ্ঠ মরিশাসের হাতে গেলে সামুদ্রিক গোয়েন্দাগিরির ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের পূর্ববর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৯৯ বছরের জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ইজারা নেওয়া হবে। তবে এই চুক্তি কার্যকর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি অপরিহার্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে স্টারমারের পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও পরে ট্রাম্প এর বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই চুক্তিকে “দুর্বলতার পরিচয়” এবং “বড় ধরনের বোকামি” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার এখনও মরিশাসের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার মে মাসে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিয়েগো গার্সিয়ার কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক সফর: পশ্চিম ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন চাল: মরিশাসের কাছ থেকে কেনার প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০১:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নতুন উদ্যোগের ফলে। জানা গেছে, হোয়াইট হাউস এখন মরিশাসের কাছ থেকে সরাসরি এই কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জটি কিনে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটেনকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি মরিশাসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনার মধ্যে দ্বীপপুঞ্জ কেনার এই ধারণাটি অন্যতম। যদিও এটি এখনও ওয়াশিংটনের প্রধান বিকল্প নয়, তবে বিষয়টি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নজরে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংকট এবং চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-সামরিক সক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযান পরিচালনায় বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ চীনঘনিষ্ঠ মরিশাসের হাতে গেলে সামুদ্রিক গোয়েন্দাগিরির ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের পূর্ববর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৯৯ বছরের জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ইজারা নেওয়া হবে। তবে এই চুক্তি কার্যকর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি অপরিহার্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে স্টারমারের পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও পরে ট্রাম্প এর বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই চুক্তিকে “দুর্বলতার পরিচয়” এবং “বড় ধরনের বোকামি” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার এখনও মরিশাসের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার মে মাসে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিয়েগো গার্সিয়ার কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।