ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সহিংসতায় জড়িত ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী গোষ্ঠী এবং তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্মানের স্মারক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে উল্টো স্বাগত জানিয়েছে উগ্রপন্থী সংগঠন ‘রেগাভিম’। উল্লেখ্য, এই সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা খোদ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা আরেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব দানিয়েলা ওয়াইজ, যার নেতৃত্বাধীন ‘নাচালা’ আন্দোলন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণে সক্রিয়। তিনিও ইউরোপীয় এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘হাস্যকর’ ও ‘তুচ্ছ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে জড়িত থাকার দায়ে ইইউ এবার ৪টি প্রতিষ্ঠান ও ৩ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই তালিকায় ওয়াইজ, রেগাভিম ও এর পরিচালক মেয়ার ডয়েচ এবং অবৈধ বসতি স্থাপনে লজিস্টিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী ‘আমানা কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন’ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন খোদ ইসরাইলি সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরাও। অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতায় উসকানি ও সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্ট করে যে, ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে বসতি স্থাপনের এই অবৈধ প্রকল্পে ইসরাইল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের সরাসরি সমর্থন রয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর এমন নির্লিপ্ত এবং পরোয়া না করার ভঙ্গি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপগুলো বসতি সম্প্রসারণ থামাতে বা ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকারিতাহীন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো উল্টো ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই উগ্রপন্থী নেতাদের জনপ্রিয়তা ও মর্যাদা বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, এই কট্টরপন্থী নেতারা যে প্যারিস বা লন্ডনে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে যাবেন না এবং এই নিষেধাজ্ঞায় তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না, তা সবারই জানা।
রিপোর্টারের নাম 
























