ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় তুরস্কের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে, ন্যাটোতে আঙ্কারার সরব উপস্থিতি

ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তুরস্কের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে দেশটি এখন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ন্যাটোর সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজক দেশ হিসেবে তুরস্ক এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক গত এক দশকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে দেশটি তার সামরিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানির। গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ট্যাংক ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তুরস্কের তৈরি বাইরাকতার টিবি-২ ড্রোন দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়াসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে এই ড্রোন সংগ্রহ করেছে। শুধু ড্রোন নয়, তুরস্ক পোল্যান্ডে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার ব্যবস্থা, পর্তুগালের জন্য নৌবাহিনীর লজিস্টিক জাহাজ, স্পেনের জন্য উন্নত জেট প্রশিক্ষণ বিমান, ইরাকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ায় যুদ্ধবিমান সরবরাহ করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) অনুযায়ী, পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, আলবেনিয়া, কসোভো ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনাও তুরস্ক থেকে অস্ত্র আমদানি করেছে।

ন্যাটোর বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্পেও তুরস্কের প্রতিষ্ঠান রকেটসান ও আসেলসানের মতো কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সক্ষমতা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করবে। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তুরস্কের সক্রিয়তা বেড়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের শুরুতে শান্তি আলোচনা আয়োজন, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংযোগ স্থাপন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে দেশটি নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত ১,৩১১ আশ্রয়কেন্দ্র

ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় তুরস্কের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে, ন্যাটোতে আঙ্কারার সরব উপস্থিতি

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তুরস্কের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে দেশটি এখন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ন্যাটোর সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজক দেশ হিসেবে তুরস্ক এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক গত এক দশকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে দেশটি তার সামরিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানির। গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ট্যাংক ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তুরস্কের তৈরি বাইরাকতার টিবি-২ ড্রোন দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়াসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে এই ড্রোন সংগ্রহ করেছে। শুধু ড্রোন নয়, তুরস্ক পোল্যান্ডে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার ব্যবস্থা, পর্তুগালের জন্য নৌবাহিনীর লজিস্টিক জাহাজ, স্পেনের জন্য উন্নত জেট প্রশিক্ষণ বিমান, ইরাকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ায় যুদ্ধবিমান সরবরাহ করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) অনুযায়ী, পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, আলবেনিয়া, কসোভো ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনাও তুরস্ক থেকে অস্ত্র আমদানি করেছে।

ন্যাটোর বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্পেও তুরস্কের প্রতিষ্ঠান রকেটসান ও আসেলসানের মতো কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সক্ষমতা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করবে। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তুরস্কের সক্রিয়তা বেড়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের শুরুতে শান্তি আলোচনা আয়োজন, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংযোগ স্থাপন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে দেশটি নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।