পেরুর নাগরিকেরা আজ রোববার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি ও বামপন্থি রবার্তো সানচেজের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জরিপে ফুজিমোরি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, শেষ সপ্তাহে সানচেজ ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, যা নির্বাচনের ফলাফলকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
পেরুর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। ভোট গণনা শেষে রাতেই বিজয়ী ঘোষণা করা হতে পারে, তবে ফল খুব কাছাকাছি হলে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ৫১ বছর বয়সি কেইকো ফুজিমোরি তার প্রয়াত ও বিতর্কিত পিতা, সাবেক একনায়ক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে নির্বাচন করছেন। তার বাবার শাসনামলে মাওবাদী বিদ্রোহী ‘শাইনিং পাথ’ দমন এবং চরম মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, তবে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আলবার্তো ফুজিমোরিকে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেইকো ফুজিমোরি জয়ী হলে হয়তো প্রাথমিকভাবে সংযম দেখাবেন, কিন্তু ক্ষমতা হাতে পেলে স্বৈরাচারী আচরণ করতে পারেন এবং প্রতিবাদ দমন করতে পারেন। কেইকো এর আগে ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে হেরেছেন। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার না করা এবং ২০২১ সালে ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ আনার পাশাপাশি একাধিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, গত এক দশকে পেরুতে নয়জন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের পেছনে তার দল ‘পপুলার ফোর্স’ প্রধানভাবে দায়ী। বর্তমানে তিনি দেশজুড়ে সহিংস অপরাধ ও চাঁদাবাজি দমনে তার বাবার মতো কঠোর নীতি গ্রহণের প্রস্তাব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ৫৭ বছর বয়সি বামপন্থি প্রার্থী রবার্তো সানচেজও জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন। তিনি সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট পেড্রো কাস্তিলোর দেওয়া ‘সোমব্রেরো’ (টুপি) মাথায় দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০২১ সালে ফুজিমোরিকে পরাজিত করা কাস্তিলোর সরকার চরমপন্থা, অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দুর্নীতি তদন্ত এড়াতে কাস্তিলো কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যার ফলে তাকে অভিশংসিত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 




















