ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের আগে ভিসা বিতর্কে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে ভিসা ইস্যুতে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অভিযোগ, তাদের জাতীয় ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কারিগরি স্টাফকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইরানের সব খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইরানের প্রথম ম্যাচের আগেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জানিয়েছে, ভিসা-ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যেন দেশটিতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খেলাধুলায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। দূতাবাসের দাবি, দলের ব্যবস্থাপনা, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিগত উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং একজন মিডিয়া কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিশ্বকাপের আগে তুরস্কে অনুশীলন শেষ করে শনিবার মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইরান দল। টুর্নামেন্ট চলাকালে দলটি মেক্সিকোতেই অবস্থান করবে।

ইরানের রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার শর্ত অনুসারে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং খেলা শেষে দেশটি ত্যাগ করতে হবে। এক বিবৃতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘সত্য গোপনের চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ইরান। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম আসর, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থাকা (রাজনৈতিক টানাপোড়েন) একটি দেশের দল একই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানের খেলোয়াড় বা প্রতিনিধিদলের ওপর কোনো বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না। তবে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব আয়োজক শহরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক সফর: পশ্চিম ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন

বিশ্বকাপের আগে ভিসা বিতর্কে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে ভিসা ইস্যুতে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অভিযোগ, তাদের জাতীয় ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কারিগরি স্টাফকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইরানের সব খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইরানের প্রথম ম্যাচের আগেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জানিয়েছে, ভিসা-ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যেন দেশটিতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খেলাধুলায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। দূতাবাসের দাবি, দলের ব্যবস্থাপনা, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিগত উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং একজন মিডিয়া কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিশ্বকাপের আগে তুরস্কে অনুশীলন শেষ করে শনিবার মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইরান দল। টুর্নামেন্ট চলাকালে দলটি মেক্সিকোতেই অবস্থান করবে।

ইরানের রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার শর্ত অনুসারে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং খেলা শেষে দেশটি ত্যাগ করতে হবে। এক বিবৃতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘সত্য গোপনের চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ইরান। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম আসর, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থাকা (রাজনৈতিক টানাপোড়েন) একটি দেশের দল একই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানের খেলোয়াড় বা প্রতিনিধিদলের ওপর কোনো বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না। তবে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব আয়োজক শহরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।