দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ১০টি পৃথক পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। ফলে তারা আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।একই এলাকায় সামন্তা সীমান্তে বিএসএফ একটি প্রিজন ভ্যানে করে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্তে পুশইনের উদ্দেশ্যে কয়েকজন নারী-পুরুষকে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেলেও বিজিবির তৎপরতায় তাদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ। জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন ব্যক্তিকে জড়ো করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পেয়ে বিজিবি সতর্কতা বাড়ায়। ফলে সম্ভাব্য ওই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিপরীতে কয়েকটি হোল্ডিং সেন্টারে কয়েকজন মুসলিম নাগরিককে পুশইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে ওই এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হেফাজতে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটকে রাখার তথ্য পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবিকে কিছু জানানো হয়নি।
পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়ার পর সেখানে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে বিজিবি।
সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই শেষে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। এ ছাড়া নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম অঞ্চলে কয়েকজন ব্যক্তিকে একত্রিত করে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ওই এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতি এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো পুশইন প্রচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনীটি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























