ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম হবে স্যাটেলাইট সিটি: ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সিডিএ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যৎমুখী বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ২৫ বছরের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এই নতুন মাস্টারপ্ল্যানটি আগামী ডিসেম্বরে প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে গণশুনানির গেজেট প্রকাশের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর ৬০ দিনব্যাপী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, এই মহাপরিকল্পনার আওতায় চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ বা স্যাটেলাইট সিটিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে মূল শহর ১৫৫ বর্গকিলোমিটারের সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকাকে যুক্ত করে প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মূল শহরের সঙ্গে সমন্বিত করা হবে। এতে একদিকে যেমন শহরের ওপর চাপ কমবে, তেমনি চট্টগ্রামের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।

১৯৯৫ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান ২০১৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু হয়, যা ‘মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫-৫০’ নামে পরিচিত। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। চলতি জুন মাসে প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যান তৈরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গণশুনানি বাকি থাকায় এটি ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভৌত কাজের ৮৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতির ৫৯.৬৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ১ হাজার ১৩৫টি মৌজা ম্যাপ স্ক্যান ও ডিজিটালাইজড করা হয়েছে, যেখানে খাল, নালা, পাহাড় ও জলাশয়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবহন, পরিবেশ ও ভৌত অবকাঠামো এবং আর্থসামাজিক জরিপও শেষ হয়েছে।

নতুন মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় জেলার হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া পৌরসভা এবং আনোয়ারা, কর্ণফুলী উপজেলা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া বোয়ালখালী, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড উপজেলার আংশিক এলাকাও শহরের আওতায় আসবে। এই সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে ৮-১০ লাখ মানুষের উন্নত আবাসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে শহরের মানুষ নগরে কাজ করে নির্বিঘ্নে দূরবর্তী আবাসে ফিরে যেতে পারবে এবং জোনভিত্তিক এলাকাগুলোতে নাগরিক সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল: জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম হবে স্যাটেলাইট সিটি: ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে সিডিএ

আপডেট সময় : ১১:১৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যৎমুখী বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ২৫ বছরের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এই নতুন মাস্টারপ্ল্যানটি আগামী ডিসেম্বরে প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে গণশুনানির গেজেট প্রকাশের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর ৬০ দিনব্যাপী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, এই মহাপরিকল্পনার আওতায় চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ বা স্যাটেলাইট সিটিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে মূল শহর ১৫৫ বর্গকিলোমিটারের সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকাকে যুক্ত করে প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মূল শহরের সঙ্গে সমন্বিত করা হবে। এতে একদিকে যেমন শহরের ওপর চাপ কমবে, তেমনি চট্টগ্রামের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।

১৯৯৫ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান ২০১৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু হয়, যা ‘মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫-৫০’ নামে পরিচিত। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। চলতি জুন মাসে প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যান তৈরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গণশুনানি বাকি থাকায় এটি ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভৌত কাজের ৮৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতির ৫৯.৬৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ১ হাজার ১৩৫টি মৌজা ম্যাপ স্ক্যান ও ডিজিটালাইজড করা হয়েছে, যেখানে খাল, নালা, পাহাড় ও জলাশয়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবহন, পরিবেশ ও ভৌত অবকাঠামো এবং আর্থসামাজিক জরিপও শেষ হয়েছে।

নতুন মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় জেলার হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া পৌরসভা এবং আনোয়ারা, কর্ণফুলী উপজেলা সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া বোয়ালখালী, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড উপজেলার আংশিক এলাকাও শহরের আওতায় আসবে। এই সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে ৮-১০ লাখ মানুষের উন্নত আবাসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে শহরের মানুষ নগরে কাজ করে নির্বিঘ্নে দূরবর্তী আবাসে ফিরে যেতে পারবে এবং জোনভিত্তিক এলাকাগুলোতে নাগরিক সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে।