ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

চীন গড়ে তুলছে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক: পরমাণু হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও আগাম পরমাণু হামলা রুখে দিতে এবং নিজেদের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে এক দুর্গম মরুভূমিতে বিশাল সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে চীন। তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই বেইজিংয়ের এই বিশাল গোপন পরমাণু আধুনিকায়নের তথ্য স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে।

চীনের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পূর্ব জিনজিয়াংয়ের মরুভূমিতে থাকা গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছেই ৮০টিরও বেশি লাঞ্চ প্যাড, সাঁজোয়া বাঙ্কার, বিমানঘাঁটি ও যোগাযোগ কেন্দ্রের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে প্রকাশ না পাওয়া এই নির্মাণকাজ চীনের স্থলভিত্তিক পারমাণবিক বাহিনীকে সুরক্ষিত ও পরিচালনার জন্য বড় পরিসরের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্যাডগুলো চীনের ক্রমবর্ধমান মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া, এই নেটওয়ার্কটি ফাইবার-অপটিক কেবল ও শক্তিশালী স্যাটেলাইট টাওয়ারের মাধ্যমে সরাসরি কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত, যা হামলা হওয়ার ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই তা শনাক্ত করে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুইটি অক্টাগন আকৃতির স্থাপনার সঙ্গে বিস্তৃত সড়ক ও অবকাঠামোর সংযোগ রয়েছে, যা হামী অঞ্চলের সাইলো ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত। এসব স্থাপনার মধ্যে সামরিক যানবাহনের জন্য আবাসন, বাঙ্কার, অস্ত্র সংরক্ষণাগার, বিমানঘাঁটি ও রেল সংযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে বড় আকারের সামরিক যানবাহন চলাচল ও মহড়া দেখা গেছে বলেও স্যাটেলাইট চিত্রে উল্লেখ করা হয়।

একটি স্থানে সম্ভাব্য মহাকাশ বা মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।

চীনের পারমাণবিক নীতির মূল লক্ষ্য সীমিত কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা, যা প্রথম আঘাতের পরও পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। যদিও দেশটি সাবমেরিন ও বিমান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে, তবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিনজিয়াং ও গানসু প্রদেশের সাইলো ঘাঁটিগুলোই এর মূল ভিত্তি।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ান নিয়ে কোনও সংঘাত শুরু হলে এই নতুন অবকাঠামো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

চীন গড়ে তুলছে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক: পরমাণু হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ০৫:২৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও আগাম পরমাণু হামলা রুখে দিতে এবং নিজেদের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে এক দুর্গম মরুভূমিতে বিশাল সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে চীন। তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই বেইজিংয়ের এই বিশাল গোপন পরমাণু আধুনিকায়নের তথ্য স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে।

চীনের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পূর্ব জিনজিয়াংয়ের মরুভূমিতে থাকা গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছেই ৮০টিরও বেশি লাঞ্চ প্যাড, সাঁজোয়া বাঙ্কার, বিমানঘাঁটি ও যোগাযোগ কেন্দ্রের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে প্রকাশ না পাওয়া এই নির্মাণকাজ চীনের স্থলভিত্তিক পারমাণবিক বাহিনীকে সুরক্ষিত ও পরিচালনার জন্য বড় পরিসরের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্যাডগুলো চীনের ক্রমবর্ধমান মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া, এই নেটওয়ার্কটি ফাইবার-অপটিক কেবল ও শক্তিশালী স্যাটেলাইট টাওয়ারের মাধ্যমে সরাসরি কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত, যা হামলা হওয়ার ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই তা শনাক্ত করে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুইটি অক্টাগন আকৃতির স্থাপনার সঙ্গে বিস্তৃত সড়ক ও অবকাঠামোর সংযোগ রয়েছে, যা হামী অঞ্চলের সাইলো ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত। এসব স্থাপনার মধ্যে সামরিক যানবাহনের জন্য আবাসন, বাঙ্কার, অস্ত্র সংরক্ষণাগার, বিমানঘাঁটি ও রেল সংযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে বড় আকারের সামরিক যানবাহন চলাচল ও মহড়া দেখা গেছে বলেও স্যাটেলাইট চিত্রে উল্লেখ করা হয়।

একটি স্থানে সম্ভাব্য মহাকাশ বা মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।

চীনের পারমাণবিক নীতির মূল লক্ষ্য সীমিত কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা, যা প্রথম আঘাতের পরও পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। যদিও দেশটি সাবমেরিন ও বিমান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে, তবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিনজিয়াং ও গানসু প্রদেশের সাইলো ঘাঁটিগুলোই এর মূল ভিত্তি।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ান নিয়ে কোনও সংঘাত শুরু হলে এই নতুন অবকাঠামো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।