ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে যদি ওমান ইরানকে সহযোগিতা করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্প্রতি এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি তেল পরিবহনের পথ এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্য তদারকিতে ওমান ও ইরানের যৌথ ভূমিকার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, কেউ এটার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে না। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং ওমানকেও আর সবার মতোই আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।

শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে ট্রাম্প হয়তো ভুলবশত ‘ইরান’ বলতে গিয়ে ‘ওমান’ বলে ফেলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বক্তব্যের একটি ট্রান্সক্রিপ্ট শেয়ার করে, যেখানে আরব দেশ ওমানের নামই উল্লেখ রয়েছে।

তবে সমালোচকরা এই হুমকিকে ‘বেপরোয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন ডনের অ্যাডভোকেসি পরিচালক রায়েদ জাররার ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মাফিয়া বসের’ ভাষার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের সনদে যেকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এই নিষেধাজ্ঞা বাকি সবার মতো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য।

নিরপেক্ষ অবস্থানের জন্য পরিচিত ওমান অবশ্য হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনও ইচ্ছার কথা জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস ২০০ বছরের বেশি পুরোনো। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ একাধিক সমঝোতা রয়েছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল ওমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি: জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ৯.১৬ শতাংশে

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে যদি ওমান ইরানকে সহযোগিতা করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্প্রতি এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি তেল পরিবহনের পথ এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্য তদারকিতে ওমান ও ইরানের যৌথ ভূমিকার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, কেউ এটার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে না। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং ওমানকেও আর সবার মতোই আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।

শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে ট্রাম্প হয়তো ভুলবশত ‘ইরান’ বলতে গিয়ে ‘ওমান’ বলে ফেলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বক্তব্যের একটি ট্রান্সক্রিপ্ট শেয়ার করে, যেখানে আরব দেশ ওমানের নামই উল্লেখ রয়েছে।

তবে সমালোচকরা এই হুমকিকে ‘বেপরোয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন ডনের অ্যাডভোকেসি পরিচালক রায়েদ জাররার ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মাফিয়া বসের’ ভাষার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের সনদে যেকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এই নিষেধাজ্ঞা বাকি সবার মতো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য।

নিরপেক্ষ অবস্থানের জন্য পরিচিত ওমান অবশ্য হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনও ইচ্ছার কথা জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস ২০০ বছরের বেশি পুরোনো। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ একাধিক সমঝোতা রয়েছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল ওমান।