ঈদুল আজহার জামাত এবং ছুটির সময়ে ফাঁকা থাকা ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তায় একটি সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার।
জাতীয় ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে এই বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। কোরবানির এই ঈদে ফাঁকা বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকার জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও কথা জানান তিনি।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদ জামাত কেন্দ্রিক নিরাপত্তায় প্রায় এক হাজার এবং এর আশপাশের এলাকায় চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া পুরো মহানগরীতে ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
ঈদ জামাত নিয়ে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, উস্কানিমূলক প্রচারণা, বিশেষ করে সাইবার জগতে বিভিন্ন রকম প্রচারণা চালানো হতে পারে এবং সে ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে সাইবার পেট্রোল টিম বিষয়টি নজরদারি করছে।
ঈদের বাড়তি নিরাপত্তার কারণে ঢাকা মহানগরীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পুলিশ সদস্যের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশ পথে বিশেষ তল্লাশি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াজ টাওয়ার স্থাপন, ড্রোন মনিটরিং, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সোয়াত, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম, জাতীয় ঈদগাহের অভ্যন্তরে পুলিশ ‘সাব-কন্ট্রোল রুম’ এবং ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি মুসল্লিদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সবাই পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঈদগাহে আসবেন এবং নিরাপত্তাজনিত তল্লাশিতে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। শুধুমাত্র জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে না আনার জন্য বলা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















