একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সীমানা কেবল মানচিত্রের কিছু রেখাচিত্র নয়, বরং তা তার নাগরিকদের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার এক অলঙ্ঘনীয় সুরক্ষাবলয়। কিন্তু বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা আজ এক রক্তক্ষয়ী নিয়তির মুখোমুখি। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমার—এই দেশের প্রান্তসীমাকে কেন্দ্র করে এক দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ ও কাঁটাতারে ঘেরা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, যেখানে প্রতিনিয়ত ঝরছে নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের রক্ত, আর দক্ষিণে মিয়ানমার সীমান্ত— যা জাতিগত নিধনযজ্ঞ, যুদ্ধাপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের এক জীবন্ত আন্তর্জাতিক সাক্ষী।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত: রক্তস্নাত কাঁটাতার ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার গুলি, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম অবমাননা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তে নিহতের সংখ্যা কখনোই শূন্যে নামানো যায়নি। ২০০০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিগত ২৫ বছরে বিএসএফের হাতে অন্তত ১৯০০ থেকে ২০০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক দশকে অন্তত ৩০৫ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২৮২ জন গুরুতর জখম হয়েছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মিয়ানমার জান্তার ভূমিকা কেবল তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনমিতির ওপর সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদী আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং রোম সংবিধির আয়নায় চোখ রাখলে স্পষ্ট দেখা যায়, বাংলাদেশকে ঘিরে এই দুই দেশের সীমান্তে চলমান নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতা, বলপূর্বক পুশ-ইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিহীনতা কেবল প্রথাগত সীমান্ত অপরাধ নয় বরং এই প্রক্রিয়াগুলো সুপদ্ধতিগতভাবে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ হাতছানি দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























